Published : 03 May 2026, 09:42 PM
মে মাসে দেশে দুই থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পাশাপাশি চলতি মাসে একটি থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।
রোববার মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মে মাসে ৬ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে। এরপর দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
"মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টিসহ ৫-৬ দিন হালকা থেকে মাঝারি যার মধ্যে ২-৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।"
মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২ টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে যার মধ্যে ১টি নিম্নচাপ-ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের ভাষ্য, "মে মাসের শেষার্ধ্বে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে যা নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে।"
মে মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে বলে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে তুলে ধরেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর বলছে, এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষিতে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এপ্রিলে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত
এপ্রিল মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এপ্রিলে রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং বাকী বিভাগগুলোতে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক ৮ দিন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও এ মাসে ১১ দিন বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ মাসে গড়ে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক ধরা হলেও গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার।

এপ্রিলে বরিশাল বিভাগে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের সাথে পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগ ঘটায় ৬ থেকে ৯ এপ্রিল ও ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল মাসে দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারী ধরণের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং মাসের অধিকাংশ দিন দেশের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেই সাথে বজ্রপাত ও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়।
তিনি বলেন, “এপ্রিলে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি ছিল। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে অবস্থান করা তাপীয় লঘুচাপের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাসের ধাক্কায় সৃষ্টি হওয়া মেঘ ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল বিভাগে বৃষ্টি ঝড়িয়েছে।"