Published : 03 Jun 2026, 04:39 PM
রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় দিনে-দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর ‘জিম্মি করে মুক্তিপণ আদার চেষ্টার’ অভিযোগে নয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম।
গ্রেপ্তার নয়জন হলেন, জাহিদ হোসেন (২০), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), আরিফুল ইসলাম (২৩), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), সোহেল রানা (২৪), সাকিব (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার জন্য শ্যামলী এলাকায় পৌঁছলে কয়েকজন তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাটার শোরুমের গলিতে নিয়ে আটকে রাখে।
অপহরণকারীরা এ সময় তার কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে ফোন করে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।”
আদাবর থানা পুলিশের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত উপকমিশনার বলেন, এরই মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অপহরণকারীদের কথা কাটাকাটিও হয় এবং তার টাকা ও মোবাইল ফোন ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করার সময় সেখানে আদাবর থানার পুলিশের একটি টহল গাড়ি যায়।
পুলিশের টহল গাড়ি দেখেই অপহরণকারীরা তাদের কাছে থাকা চাকু ও অন্য অস্ত্র পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে এবং কেউ কেউ একটু দূরে সরে অবস্থান নেয়, যাতে মনে হয় কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী পুলিশকে দেখে চিৎকার করে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ দ্রুত সেখানে যায়। তখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সময় জাহিদ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, জাহিদ নামের এই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো আটজনকে শনাক্ত করার পর পুলিশ টানা ১০ থেকে ১১ ঘন্টা অভিযান চালায়। এ সময় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। পরে গ্রেপ্তার করা হয় নাঈম ও তামিমকে।
তিনি বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে সুযোগ বুঝে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। কিছুদিন আগে এই চক্রের আর কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা ভাড়ায় গাড়ির ব্যবসার সাথে জড়িত।”