Published : 08 Apr 2026, 07:18 PM
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে আবারও আদালতে জেরার সম্মুখীন হয়েছেন তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।
সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক এই বিমানবালা দাবি করেছেন, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় আগের স্বামী রাকিব হোসেনকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন।
‘আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই’ নতুন করে বিয়ের অভিযোগে রাকিব হোসেনের দায়েল করা মামলায় বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে বাদীপক্ষের জেরার মুখোমুখি হন তামিমা।
এ সময় তিনি তালাকের দুটি কারণ তুলে ধরেন। জেরায় তামিমার ‘বয়ফ্রেন্ড’ অলক সাহার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ এ মামলায় নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তামিমা। এরপর বাদীপক্ষ থেকে জেরা শুরু হয়। তবে ওইদিন জেরা শেষ হয়নি। অবশিষ্ট জেরার জন্য বুধবার দিন রেখেছিল আদালত।
সে অনুযায়ী নাসির ও তামিমা এদিন আদালতে হাজির হন। মামলার বাদী রাকিবও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তামিমাকে জেরা শুরু করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ও সুবীর নন্দী দাস। ঘণ্টাখানেক জেরার পর বিরতিতে যায় আদালত। বিকেল ৩টা থেকে আবার আধঘণ্টা তামিমাকে জেরা শুরু হয়।
তালাকনামা অনুযায়ী, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় রাকিবকে তালাক দিয়েছিলেন কিনা প্রশ্ন করেন আইনজীবীরা। জবাবে তামিমা বলেন, “হ্যা।”
রাকিবের বিরুদ্ধে ভরণ-পোষণ, যৌতুক বা অন্য মামলা করেছিলেন কি না প্রশ্নের জবাবে তামিমা বলেন, “না।”
ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে তালাকের নোটিস পাঠিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তামিমা ‘না’ বলেন।
কাবিননামা ও তালাকনামায় জন্মসাল ভিন্ন–এ বিষয়ে প্রশ্নে তামিমা ‘হ্যা’ সূচক জবাব দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এ সময় বলেন, ‘প্রতারণার’ জন্য দুই নিকাহনামায় ভিন্ন জন্মসাল উল্লেখ করেছেন তামিমা। উত্তরে তামিমা তার অস্বীকার করেন।
নাসিরকে বিয়ে করার সময় আগের স্বামী রাকিব, মেয়ে এবং ‘বয়ফ্রেন্ড’ অলকের বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন কি না প্রশ্ন কলে তামিমা ‘হ্যা’ বলেন।
এক পর্যায়ে আইনজীবীরা বলেন, রাকিব পর্দার দোকানের ম্যানেজার, আর নাসির অর্থবিত্তের মালিক। রাকিবের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগে অর্থ-বিত্তের ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে নাসির ‘অবৈধভাবে’ তামিমাকে বিয়ে করেছেন। জবাবে তামিমা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি এখনো রাকিবের স্ত্রী এবং নাসিরের সঙ্গে ‘ব্যাভিচারে’ লিপ্ত এমন অভিযোগও তামিমা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ‘সত্য নয়’।
তিনি বৈধভাবে রাকিবকে তালাক দেননি– প্রশ্নেও তিনি ‘না’ বলেন।
এরপর নাসিরের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুদু জেরা করেন তামিমাকে। জেরা শেষে আগামী ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রাখা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান।
মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও বাদী রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে ‘বৈবাহিক সম্পর্ক’ চলা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসিরের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাকিব মামলাটি করেন। সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।
অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটি আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
পুরনো খবর