১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্যায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2026, 08:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

সারাদেশে ভারি বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতা ও সর্বোচ্চ সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

“জলাবদ্ধতাসহ দুযোর্গপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।”

বৈঠকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সারাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসা সেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। 

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বলেছেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তথ্য দেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, “বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

“প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলেছেন।”