Published : 03 Mar 2026, 03:33 PM
আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সারের ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকা থেকে জাফর উল্যাহকে আটক করে পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে পুলিশ।
সুস্থ হওয়ার পর ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পল্টন থানার এক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বেনামি হিসাব খুলে ব্যাংকে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখার অভিযোগে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
ওই মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনেন উপপরিচালক শারিকা ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ঠিক করেন এদিন। শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, “কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহার অনুসারে, আসামি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে পারস্পরিক যোগসাজশে ভুয়া নাম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোট ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন। তাতে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখেন।
“পরে হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ নিয়ে এবং পরবর্তীতে ভুয়া গ্রাহকের নামে নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি এ অপরাধলব্ধ অর্থ গ্রহণ, গোপন করেন। এই কর্মকাণ্ডের জন্য দুদক মামলা দায়ের করে।”
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে দুদক আবেদনে জানায়।
কাজী জাফর উল্লাহ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।