Published : 30 Jul 2025, 11:28 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় প্রধান বিচারপতির সরকার বাসভবনে যে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটি ডিভিও তথ্যচিত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এ তথ্যচিত্রটি শুধুমাত্র একটি ঘটনার চিত্রায়ণ নয়, বরং ‘গণচেতনা ধারণকারী’ ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ ঘটনার প্রামাণ্য উপস্থাপন নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্মৃতি-ভাণ্ডারে তা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভিডিও তথ্যচিত্রটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পাঠানো হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলটিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা ইতিহাস সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সুপ্রিম কোর্ট আশা প্রকাশ করে।
২০২৪ সালে জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তারপর জনতার রুদ্ররোষে তছনছ হয় পুরো গণভবন, লুটপাট হয় ভবন ও ভবন এলাকার সব কিছু।

সেই গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে।
জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনের ঘটনাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও রাজনৈতিক চেতনার ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট।
সে দিনের ঘটনা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিচারব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনও তখনকার উত্তাল পরিস্থিতির বাইরে থাকেনি।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, “এদিন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশব্যাপী যে গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, তা নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; বরং তা ছিল জনগণের গভীর প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত একটি ঐক্যবদ্ধ জনসঞ্চার।
“আন্দোলনের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে বাসভবনের কিছু অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়।”
প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের সে দিনের বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট দলিলবদ্ধ করার লক্ষ্যে এই ভিডিও তথ্যচিত্র তৈরির বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, “এ তথ্যচিত্র কেবল একটি ঘটনার চিত্রায়ণ নয়, বরং সময়ের প্রেক্ষিতে গণচেতনাকে ধারণকারী ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।
“বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বাস করে, আন্দোলনের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে মাননীয় প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কিছু অংশে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে তাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে, সংশ্লিষ্ট সময়ের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা অধিক যুক্তিযুক্ত।”