Published : 07 Nov 2025, 04:06 PM
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুড়ে যাওয়া কার্গো কমপ্লেক্স থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার আনসার সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেনারুল ইসলাম নামে অঙ্গীভূত এই আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের তথ্য জানানো হয়।
গেল ১৮ অক্টোবর বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্স পুড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরে পণ্য রাখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, যে কারণে তৈরি হয় নিরাপত্তাহীনতা।
এরমধ্যেই পোড়া কার্গো কমপ্লেক্সের স্ট্রং রুমের ভল্ট ভেঙে অস্ত্র চুরির অভিযোগ ওঠে, যার তদন্ত এখনো চলছে। এসব ঘটনা প্রবাহের মধ্যেই মোবাইল ফোনসহ ধরা পড়লেন আনসার সদস্য।
বৃহস্পতিবার ভোরে কার্গো কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় আট নম্বর হ্যাঙ্গার গেইটে ১৫টি মোবাইল ফোনসহ বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে আটক হন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জেনারুল ইসলাম।
তার শার্ট-প্যান্টে গুঁজে রাখা অবস্থায় ও বুটের ভেতর থেকে এই মোবাইলগুলো বের করা হয়।
এ ঘটনা পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আনসার সদরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাতের পালায় দায়িত্ব পালন (রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) করছিলেন তিনি।
“অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জেনারুল ইসলাম ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিকভাবে পোড়া ভবনের ভেতর থেকে কিছু বাটন ফোন লুকিয়ে বের করার চেষ্টা করেন। এসময় ঘটনাস্থলেই তাকে ধরা হয়।
“ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধে ওই সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টির কথা বলেছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া মিঠু।
তিনি বলছেন, “ঢাকা কাস্টমস হাউজের আগে থেকেই বদনাম আছে। এখানে মাল এলে বৃষ্টিতে নষ্ট হবে, চুরি হবে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আগুনে মাল নষ্ট হওয়ার ঘটনা।
“আমদানি পণ্য গুদাম পুড়ে যাওয়ার পর এখন মাল রাখতেছে ‘বে এরিয়ায়’। সেখানে আমাদের কাউকে ঢুকতে দেয় না। আগুন লাগার পর তারা বলেছে, নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ওই এলাকা তারা নিরাপদ করেছে। অথচ দেখেন, তাদের নিরাপত্তাকর্মীরাই চুরি করতেছে। শুঁটকির গুদাম পাহারা দিতেছে বিড়াল চৌকিদার। ওরা নিজেদের অস্ত্রই রক্ষা করতে পারে না, আমাদের কী নিরাপত্তা দেবে।”
চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেক বলেন, “নতুন আসা চালানের কার্টন থেকে ওই মালগুলো সরিয়েছে আনসার সদস্য। অনেক মালের মধ্য থেকে ১০, ২০টি মাল চুরি হলে কিন্তু আমরা ডেলিভারির সময় ধরতেও পারি না। পরে এটা নিয়ে ঝামেলা হয়।”
আগের খবর:
পোড়া কার্গো কমপ্লেক্সের ভল্ট ভেঙে অস্ত্র চুরির অভিযোগ