Published : 12 Apr 2026, 08:37 PM
সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলকে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দেওয়ার পরও তাদের ‘ওয়াকআউট’ করার ‘কোনো যৌক্তিকতা দেখেন না’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সবগুলো অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে শুক্রবার সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যরা।
রোববার বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুক্রবার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সরকার ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সহ সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করে বিল পাস হয়েছে। আর ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদ তোলা হয়নি। ফলে শনিবার থেকে কার্যকারিতা হারিয়েছে ২০টি অধ্যাদেশ।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম কার্যদিবসে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সেখানে পাঠানো হয়।
২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন।
ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু, ১৫টি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়। আর চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার এবং ১৬টি পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী আকারে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের নজিরবিহীনভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ‘ওয়াকআউট’ করার যৌক্তিকতা দেখি না।”
তিনি বলেন, “সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।”
স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটির’ মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই এবং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিল পাসের বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন যে ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ, কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই।
“যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটা বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়তো বিরোধীদলীয় নেতা খেয়াল করেননি।”
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বিল নিয়ে বিরোধী দলের ‘ওয়াকআউটের’ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ সংক্রান্ত বিধিগুলো আরো স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে। আগামী অধিবেশনে এটি আরো আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে।”
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক, যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়।
“কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল ‘স্টেকহোল্ডারদের’ সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
আগের খবর: