Published : 11 Oct 2025, 12:44 AM
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলার একটি প্রস্তাব ‘বিবেচনায়’ নেওয়ার কথা বলছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এজন্য কমিশন শনিবারের মধ্যে মতামত জানতে চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজের নামে বৃহস্পতিবার এ চিঠি পাঠানো হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বিষয়ে ২০১১ সালের ১০ জুলাই একটি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সেখানে ৪ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।
অনুচ্ছেদটি তুলে ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, "রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের সঙ্গে জুলাই সনদ ২০২৫ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এ পর্যায়ে কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের ‘অনুচ্ছেদ ৪ ক’ বিলুপ্তির প্রস্তাব জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।"
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত ১১ অক্টোবর শনিবার বিকাল ৪টার মধ্যে কমিশন বরাবর অথবা কমিশনের ই-মেইলে বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন হলে ই-মেইলে অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করার কথাও বলেছে কমিশন।
এমন একটি চিঠি পাওয়ার কথা বিডিনিউজ টোয়ন্টিফোর ডটকমকে জানান বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
তিনি বলেন, "বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশন থেকে এই চিঠি আমরা পেয়েছি।"
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকা না থাকার বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে গত বছরের ৫ অগাস্টের পর।
গত বছরের ১১ নভেম্বর বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলার কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সেদিন তিনি এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে ৭১ পরবর্তী ফ্যাসিস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে, আমরা ৫ অগাস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু, জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে আর কোথাও দেখা যাবে না।”
এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ২৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানো হয় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষ থেকে।
ওই সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের প্রথম ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিন ব্রিফিং শুরুর আগে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলা হয়।