ঠাকুরগাঁওয়ে ‘কম দামে’ সরকারি জমি বিক্রির প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ

আবার আবাদ বাড়ায় এ অঞ্চলের চাষি ও পাট ব্যবসায়ীরা ক্রয়কেন্দ্রটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন বলে একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Oct 2023, 12:55 PM
Updated : 16 Oct 2023, 12:55 PM

ঠাকুরগাঁওয়ে জুট ট্রেডিং করপোরেশনের (জেটিসি) পাট ক্রয়কেন্দ্রের জমি ‘নামমাত্র মূল্যে’ বিক্রির কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।

একই সঙ্গে বিক্রির এ সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানাতে রুল জারি করেছে আদালত। পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন বিভূতি তরফদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

ঠাকুরগাঁওয়ের আইনজীবী আব্দুস সামাদ রোববার রিট আবেদনটি করেছিলেন।

দৈনিক ইত্তেফাকে গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পাট ক্রয় কেন্দ্রের জমি, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি করেন এই আইনজীবী।

পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও সদরের শিবগঞ্জে জুট ট্রেডিং করপোরেশনের (জেটিসি) অধীন পাট ক্রয়কেন্দ্রের ৫৪ শতক জমি নামমাত্র মূল্যে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক বাজার মূল্য তিন কোটি টাকা; কিন্তু তা ৩১ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় হস্তান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানির পরও জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালের ২৯ জুন ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যে শিবগঞ্জে পাট ক্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৫৪ শতক জমি কেনে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত জেটিসি। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত সব পাট ক্রয়কেন্দ্র ২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে দেশের পাট শিল্পে মন্দা দেখা দিলে কেন্দ্রগুলো অব্যবহৃত হতে শুরু করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যেই পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে কেন্দ্রগুলো বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিবগঞ্জে দরপত্র শেষে ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর ৩১ দশমিক ৭৬ লাখ টাকা মূল্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজিউল ইসলামের কাছে ওই ৫৪ শতক সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে এ বিষয়ে ‘ইচ্ছাপত্র’ ইস্যু করা হয়।

শিবগঞ্জের ওই জমি বিক্রি সংক্রান্ত দরপত্র ও ইচ্ছাপত্র থেকে জানা যায়, বিক্রির শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে চুক্তির পুরো অর্থ তিন কিস্তিতে ইচ্ছাপত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি মাত্র কিস্তিতে মোট অঙ্কের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা দেন ব্যবসায়ী রাজিউল। এরপর আর অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। এর চার প্রায় পর জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২৬ জুলাই ওই ব্যবসায়ী আগের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা পরিশোধের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন।

এমন অবস্থায় পাট চাষে পুনরায় গতি ফিরে আসায় এবং দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় জেলায় বেশ কয়েকটি পাটকল বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়ে লাভজনক অবস্থানে আসায় এ অঞ্চলের চাষি ও পাট ব্যবসায়ীরা পাট ক্রয়কেন্দ্রের জমিটি নামমাত্র মূল্যে হস্তান্তরের বিরোধিতা করছেন বলে ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে ঠাকুরগাঁওয়ের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার মালাকার বলেন, চাহিদা ও ভালো বাজার মূল্যের কারণে এই এলাকায় পাট চাষে কৃষকরা আবার আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জেলায় গত কয়েক বছর ধরে গড়ে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে পাট চাষ হচ্ছে। ক্রয়কেন্দ্রটি চালু হলে ভালো বাজার মূল্যে পাট বিক্রির নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।