Published : 05 Mar 2026, 03:46 PM
চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুসরাত জাবীন নিম্মী।
এদিন আসামিদের জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মাসুম মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি নিয়ে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে পারেনি। এজন্য আগামী ১৫ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন রেখেছেন বিচারক।
স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন ৪০ বছর বয়সী শিমু। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। তার সন্ধানে পরদিন কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্বামী নোবেল।

সেদিন দুপুরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কেরাণীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তা থেকে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ওই লাশ শিমুর বলে শনাক্ত করেন তার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন।
মামলা হওয়ার পর ওই রাতেই নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে আটক করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
ঢাকার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার ওই বছর ১৮ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পারিবারিক বিষয়াদি ও দাম্পত্য কলহের কারণে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছে শিমুর স্বামী নোবেল ও লাশটি গুম করতে সহায়তা করেছে নোবেলের বন্ধু ফরহাদ।”
কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে শিমুর। পরের বছরগুলোতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষি নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরও বেশ কিছু পরিচালকের প্রায় ২৫ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাকে। শাকিব খান, অমিত হাসানসহ কয়েকজন তারকার সঙ্গেও কাজ করেছেন।
শিমু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় এবং প্রযোজনাও করেছেন।