Published : 23 Feb 2026, 04:57 PM
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত ফারুক ওরফে কাইল্লা ফারুককে হত্যাচেষ্টার মামলায় দুই দিনের রিমান্ড পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রাজু আহম্মেদ আসামি ফারুককে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
অন্যদিকে ফারুকের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে দুই দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয়।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারক আসামির পেশা এবং মামলার বাদীকে চেনেন কি না–তা জানতে চান।
ফারুক দাবি করেন, তার একটি পিকআপ আছে, জায়গা-জমির ব্যবসা করেন। যেখানে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে, সেখানে তিনি ‘গত এক সপ্তাহে’ যাননি। মামলার বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।
রোববার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মোহাম্মদপুর থানার ওসি তাকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরিয়ে দেখান এবং মাইকিং করে বলেন ‘চাঁদাবাজ ধরা হয়েছে’, কেউ যেন চাঁদা না দেন।
যে মামলায় ফারুককে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তার বাদী মো. রাসেল মোহাম্মদপুরের একজন ব্যবসায়ী।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা গ্রীনভিউ হাউজিং এলাকায় মাদকের কারবার করত। রাসেল ও তার বন্ধু মো. মামুন তা বন্ধ করে দেন। আসামিদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন আট দিন আগে মোহাম্মদপুরের বছিলা রোড এলাকায় ফুটপাতের দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। রাসেল ও মামুনসহ আরো কয়েকজন আসামিদের চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়। তখন অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন আসামি রাসেল ও মামুনকে ‘মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে’ চলে যায়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় মামলার ৭ জন আসামি ও অজ্ঞাতনামা ৮ জন আসামি অস্ত্রসহ বছিলা রোড এলাকায় এসে রাসেল ও মামুনকে মারধর করে । তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রাসেল রোববার মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। ফারুককে ধরার পর সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।