Published : 21 May 2026, 06:03 PM
ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার ৮ টুকরা লাশ উদ্ধারের মামলায় প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই এনামুল হক মিঠু বৃহস্পতিবার হাসনা ও আব্দুল মতিন দেওয়ান নামে সন্দিগ্ধ এক আসামিকে আদালতে হাজির করেন।
হাসনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি মতিনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামি হাসনার জবানবন্দি নথিবদ্ধ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামি মতিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ।
প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মনিরুজ্জামান এসব তথ্য দিয়েছেন।
বুধবার হাসনাকে নরসিংদী থেকে এবং মতিনকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার হাসনার বান্ধবী হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর হেলেনার মেয়ে কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তালশহরে; রোববার মুগদার মান্ডা থেকে কয়েক টুকরা লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সোমবার বিকালে র্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার রহস্য তুলে ধরে স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান বলেন, নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাসলিমা বেগম নামে আরেক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মোকাররম।
গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় এসে সরাসরি মুগদার মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি।
এক কক্ষের সেই বাসায় হেলেনা তার ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকেন। মোকাররমের আসার খবরে সেদিনই তাসলিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওই বাসায় যান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরকীয়ার সময় দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়। ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও ধারণ করা হয়। মান্ডার সেই বাসায় তাসলিমা-মোকাররমের বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, “তাসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হলে মোকাররম তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন। হেলেনার অভিযোগ, মোকাররম তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন।
“এ পরিস্থিতিতে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। কিছুটা চেতনা থাকায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সবাই মিলে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “লাশের টুকরা পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছাকাছি আবর্জনার স্তূপে তারা ফেলে দেন। মাথা ফেলে আসেন দূরে। ঘটনার পরদিন তারা বাইরে ঘোরাফেরা করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে তারা বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেন।
“দুইদিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর রোববার রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।”
এ ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় মামলা করেন।