Published : 28 Jul 2026, 11:20 PM
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় বাজারের নাম নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার একদিন পরও বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ওসি লিমন বোস।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার আকবরনগর গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, সোমবার মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩০) ও হিরণ মিয়া (২৮) নিহত হন। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।
ওসি বলেন, মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ এলাকায় আনা হয়। বাদ আসর তাদের জানাজা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষে নিহত দুজনই মিরারচর গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় মামলার আশঙ্কায় সোমবারই আকবরনগর গ্রামের অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায়। পরে ফাঁকা বাড়িগুলোতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দুই দিনে ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
পুলিশ জানায়, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের একটি বাজারের নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
কয়েক বছর আগে সালিশের মাধ্যমে বাজারটির নাম ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ রাখা হয়। সম্প্রতি আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা নামটি শুধু ‘আকবরনগর’ করার দাবি জানান। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ‘মিরারচর-আকবরনগর’ নাম রাখার দাবি করেন।
এ বিরোধের জেরে রোববার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের বৈঠক হয়। সেখানে উত্তেজনা না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিন দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তবে বৈঠকের পর দিন সোমবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:
কিশোরগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে যুবক নিহত, ৬ ঘণ্টা আটকা ট্রেন