বিদেশে বসে সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য: ব্যবস্থা নেওয়ার ‘সুযোগ নেই’ সরকারের

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Feb 2024, 03:26 PM
Updated : 8 Feb 2024, 03:26 PM

বিদেশে বসে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ‘অপতথ্য’ প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সরাসরি কোনো এখতিয়ার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

তবে তথ্য অধিদপ্তরের অধীনে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ কমিটি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশে ও বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে গুজব ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার রোধে সরকার নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছে।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশের অভ্যন্তরে বসে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা অন্তর্ঘাতমূলক কোনো কর্মকাণ্ড করলে তা প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে ব্যবস্থা এখনো গড়ে (ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা) উঠেনি। তবে এই বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সজাগ।”

তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপপ্রচারের জবাব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেই রোধ করা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অচিরেই অপপ্রচার বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

চয়ন ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের আরাফাত বলেন, “কেবল বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বই অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে খুবই চিহ্নিত। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে ‘মিস ইনফরমেশন’ ও ‘ডিস ইনফরমেশনকে’ আগামী দিনের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

“গত ১৫ বছর ধরে আমরা নিজেরা আক্রান্ত। আমরা সকলে এ বিষয়ে অবগত আছি।”

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অংশীজনের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশকে অসত্য ও গুজবমুক্ত করতে পারলে দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির কোনো জায়গা হবে না। কারণ, এই অপশক্তি কেবল অসত্য ও গুজবের ওপর ভিত্তি করে তাদের জায়গা করে নিয়েছে।

“তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও জয়বাংলাসহ সব সত্যগুলির মধ্যে বিভ্রান্তি ঢুকিয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারা এটা করছে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রের স্বার্থে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, একই সাথে গুজবকে প্রতিহত ও ডিসইনফরমেশনকে আটকে দেওয়া একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

“আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। এজন্য আইন, স্বরাষ্ট্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। আমরা ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই একটি জায়গায় যেতে পারব, যাতে দেশে অবাধ তথ্য প্রবাহ হয় আবার মিসইনফরমেশনকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারি।”

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামে ভুয়া ফেইসবুক আইডি নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। হয়ত এসব আইডিতে ইতিবাচকভাবে পোস্টগুলি হচ্ছে। কিন্তু কখনো কখনো এটা মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে। আমরা বলতে পারছি না সবসময় ইতিবাচক পোস্ট দেবে কি না। কাজেই এটা জানাটা খুবই জরুরি।

“তথ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে এগুলো বন্ধ করার মত সক্ষমতা নেই। আমরা এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখব। স্বরাষ্ট্র, আইন ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটা সমাধান বের করব, যাতে এ ধরনের সুযোগ আর ভবিষ্যতে তৈরি না হয়।”

বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।