Published : 26 Feb 2026, 08:13 PM
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত খান আকরাম হোসেনের সাজা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের এই ব্যক্তির আমৃত্যু কারাদণ্ড বাতিল করে খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় যখন আরেক আকরামের নাম পাওয়া যায়, যার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ট্রাইব্যুনালেরই রায়ে।
প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল বলেন, অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুইজন আকরামের সাজা হয়েছিল। ২০১৪ সালে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনের বাবার নাম জয়নাল আবেদিন। আর ২০২৩ সালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আকরামের বাবার নাম মোক্তার হোসেন।
বৃহস্পতিবার ব্রিফিংকালে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে মামলাটা গতকালকে (বুধবার) ছিল- এই মামলার মধ্যে আরেক আকরামের বিচার-টিচার সম্পর্কে কিন্তু কোনো কিছু রেকর্ডে নাই। সো আমরা এভিডেন্স বা রেকর্ডসের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত নলেজ থেকে কিচ্ছু বলার কোনো সুযোগ নাই।
“ওই আকরামের সাথে এই আকরাম হোসেনকে জড়িয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নাই।”
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বরাতে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “এইটা তারাও কিন্তু স্বীকার করেছে। ডিফেন্সও স্বীকার করেছে। বরঞ্চ তারা কী বলেছে শুনবেন? তারা বলেছে যে, ওই আকরাম, মানে তাদের ডিফেন্সের আবেদন ছিল এরকম যে, ওই আকরাম রাজাকার ছিল। আর এই আকরাম ১৩-১৪ বছর উনি ভারতে লোক নিরাপদে পাচার-টাচার করে দিয়ে সাহায্য করেছে। তার মানে বোঝা গেল যে তাদের মামলা অনুযায়ীও কিন্তু দুইটা আকরাম ছিল।”
তিনি যুক্তি দেন, “দুই আকরামেরই সাজা হয়েছে যদি আপনার বক্তব্য হয়। এই আকরামেরও সাজা হয়েছে ওই আকরামেরও সাজা হয়েছে; এবং স্বাভাব্কিভাবে তাই হয়েছে। আমাদের তো ডেফিনিট কেইস হলো আকরাম অব জয়নাল আবেদিন। আর ওই আকরাম হচ্ছে আকরাম অব মোক্তার হোসেন।”
বিভেদ-দ্বন্দে বিচার থমকে যাওয়ার ব্যাপার নেই
প্রসিকিউশনের সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নানা সমালোচার মধ্যে প্রসিকিউটরদের বিভেদ-দ্বন্দে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রভাবিত হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “একদম না। কিচ্ছু বিচারকে প্রভাবিত করবে না। আমি যতদিন দায়িত্ব পালন করব, আপনারা আমাকে অনেকেই চিনেন তো আগে থেকে। সো আমি সমঝোতা করা শিখি নাই। আমার দ্বারা কোনো সমঝোতা কিছু হবে না।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন প্রধান কৌঁসুলি বলেছিলেন কোনো নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে না, প্রকৃত দোষীদের বিচার হবে।
সে কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমিনুল বলেন, “আবারও বলছি যে, কোনো নির্দোষ মানুষ আমার দ্বারা বিন্দুমাত্র কোনো হয়রানির শিকার হবে না। আর কোনো অপরাধী যদি হয়, ভুলভ্রান্তি ছাড়া, আমার নিজেরও তো ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিন্তু কোনো অপরাধী পার পেয়ে যাবে¬–এই চিন্তা করে লাভ নাই। একদম সোজা বার্তা।”
আমিনুল ট্রাইব্যুনালকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, “অভ্যন্তরীণ একটা ফ্যামিলিতেও তো অনেক কিছু হয়। তাই বলে কি ফ্যামিলিটা চলে না? আপনি ধরে নেন, এটা আমরা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে যারা কাজ করি একটা পরিবারের সদস্য।”