Published : 21 May 2026, 09:48 PM
বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আদিবাসী তরুণদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধির যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ইউনেস্কো, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (ক্রিহ্যাপ) এবং বেসরকারি সংস্থা অনুবাদ।
এর অংশ হিসেবে ১৫ জন আদিবাসী তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে শ্রীমঙ্গলে পাঁচ দিনব্যাপী একটি কর্মশালা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার।
ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় অংশ নেন সিলেট বিভাগের বিষ্ণুপ্রিয়া, মেইতেই এবং চা-জনগোষ্ঠীর ওই তরুণ-তরুণীরা।
ইউনেস্কোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মশালার মাধ্যমে তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কমিউনিটি-ভিত্তিক তালিকা তৈরিতে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে মৌখিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থার নথিভুক্তকরণ।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান সুসান ভাইজ বলেন, “তরুণরা শুধু ভবিষ্যতের ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী নয়, তারা বর্তমান সময়েরও সক্রিয় সাংস্কৃতিক অংশীদার।
“এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটি-ভিত্তিক তালিকাকরণ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, অডিওভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, নৈতিক গবেষণা পদ্ধতি এবং অবহিত সম্মতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কমিউনিটির ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন ক্রিহ্যাপের মহাপরিচালক ঝাং জিং। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কমিউনিটি-ভিত্তিক তালিকাকরণ ও নথিভুক্তকরণে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কর্মশালা আদিবাসী তরুণদের নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সক্রিয় রক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রা ডেনেস এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রশিক্ষক রিফাত মুনিম।
কারিগরি সেশন এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রবীণ ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক অনুশীলনকারী এবং কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।