Published : 06 Feb 2026, 04:57 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটেছে।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, “তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।”
এর বাইরে আরো ২০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।
একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়তে থাকে। তার পাল্টায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে আন্দোলনকারীরা।
এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, পরে তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিকাল ৫টায় সংগঠনটির ফেইসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হতে সহযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। আরেকটি অংশ যমুনার সামনে অবস্থান অব্যাহত রেখেছিল।
কিন্তু সকাল থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক দফা চড়াও হয়। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জড়ো হওয়া কয়েকশ আন্দোলনরতদের লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ।
এ সময় সরকারি কর্মচারিদের সঙ্গে যমুনার সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর দুপুর সোয়া একটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দেওয়া পুলিশের ব্যারিক্যাডের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগবিতণ্ডা চলতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে ‘পুলিশি অ্যাকশন’ শুরু হয়।
সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছিলেন, “এই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা আছে। এই এলাকায় কারো ঢোকা নিষেধ, ঢুকলে সেটি একটি অপরাধ।”