Published : 29 Apr 2026, 05:33 PM
জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলের ব্যাগ, পোশাক ও জুতা বিতরণের যে কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে সরকার, তা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী মহলকে পাশে চাইছে তারা।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলনে কক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ব্যবসায়ীদের কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
ওই সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরিবেশের দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল এই পাইলট প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে বুধবারের সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, "ইতিমধ্যেই প্রত্যেক উপজেলার দুটি করে প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ওয়ানে স্কুলের ব্যাগ ও ড্রেস দেবে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তিনটি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এটা সরকার দিবেই।
“আর বাকিটা এই কর্মসূচিটি বাড়ানোর জন্যে আমরা আজকে ব্যবসায়ীদেরকে ডেকেছি যে তারা আমাদের এই অনন্য একটি কর্মসূচির সঙ্গে, সামাজিক একটি কর্মসূচির সাথে মানবিক একটি কর্মসূচির সাথে তারা সম্পৃক্ত হতে চায় কিনা।”
ব্যবসায়ীরা সাড়া দিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "ওনারা কমিটমেন্ট করেছে। ওনারা যে সংখ্যাটাই আমাদের কাছে পরবর্তীতে জানিয়ে দিবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সেই সংখ্যাটি নিয়ে আমরা চেকব্যাক করে দেখব যে প্রত্যেক উপজেলায় দুটির বাহিরে তিনটি, চারটি বা পাঁচটি স্কুল বাড়ানো যায় কি না।"
অর্থবছরের শেষে এসে সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে বলে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনে যে অঙ্গীকারগুলো ছিল, যে কর্মসূচিগুলো ছিল আমাদের; অর্থবছরের একদম শেষ সময় সরকার গঠন করবার কারণে আমরা কিন্তু সকল কর্মসূচি পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে শুরু করেছি এবং এগুলো ম্যাসিভ আকারে বড় ধরনে আগামী অর্থবছরে শুরু হবে।"
সব শিক্ষার্থীরা একই ধরণের ব্যাগ ও জুতা পাবেন এবং সব ছেলে শিক্ষার্থী একই ধরনোর পোশাক ও সব মেয়ে শিক্ষার্থী একই ধরনের পোশাক পাবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "পাইলট প্রোগ্রাম হবে। জুলাই উদ্বোধন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি করে প্রাইমারি স্কুলের শুধুমাত্র ক্লাস ওয়ানে আমরা সরকার থেকে দেব। বাকিটি ব্যবসায়ীরা যে সহায়তা করবে সেই সহযোগিতার সংখ্যা হিসাব করে আমরা সংখ্যা বাড়াবো।
"এর বাহিরেও যদি প্রয়োজন হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সারা বাংলাদেশেই সরকারের সক্ষমতা আছে। আমরা এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।"
ব্রিফিংয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "প্রথমত হল আমাদের কোমলতি শিশুদের ব্যাগ এবং ড্রেস বিতরণ, সেই জায়গায় উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসছেন। আমরা এখন সংখ্যা টোটালি কত হবে তা বলতে পারবো না, ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের জন্য আমরা এক লক্ষ কমিটমেন্ট বিজিএম থেকে পেয়ে গিয়েছি। আর অন্যরা আমাদেরকে জানাবেন।
"আজকে তো প্রথম বৈঠক হল, উনারা উনাদের কর্পোরেশনে বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ডিসিশন নিয়ে আমাদেরকে জানাবেন। আশা করছি মেজর পার্ট আমরা পেয়ে যেতে পারি।"
আসছে শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা পাবেন কি না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের এটা পাইলট প্রোগ্রাম, এই জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে। এটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শুরু করা হচ্ছে।
"আমরা সারাদেশেই দেব, আটটি বিভাগেই দেব; যে পরিমাণে আসবে সেই পরিমাণ করতে থাকব এবং আলটিমেটলি প্রত্যেকটি উপজেলার প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীর কাছে আমরা এটা পৌঁছাবো। এই মুহূর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরবর্তীতে মাদ্রাসা-এবতেদায়ী সব ইনক্লুড হবে।"
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি সাত লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুলড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণের পর মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রমের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তুলে ধরেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।