Published : 29 Jun 2026, 03:02 PM
প্লেটোনিক, শারীরিক অথবা উভয়
জোনাকি অন্ধকার জানে,
চেনা অতি রাতের শরীর।
আকাঙ্ক্ষাই চমকিত আলো।
রাতের স্বপ্ন থাকে ঘুমের হাতে,
দৃশ্যসব সাজায় নিজের মতো।
জাগরণে স্বপ্ন-সীমা নেই,
দুচোখ যা দেখে, নিজগড়া
আশার সামিয়ানা।
ফুটে থাকা ঠোঁটে চুম্বন উড়ে বসে,
অনেক ওড়া অবসন্ন পাখির মতো।
আদরে অধরের মধুদানায় দীর্ণ অন্তর।
কথা বলো, চুম্বনের সময় ...
মধুমাখা কথারা দুমড়ে মুচড়ে...মথিত,
মিশে থাকে মুখে।
কোনগুলো কথা, ঠোঁটফুলের পাপড়িতে সুধা
সে-এখন রূপকথার দূরের বিস্ময়!
রজনীগন্ধা ললনা, আলোতেও অবিকল।
বিফল হয় না চোখ, শুভ্রতায় চমকায়
সুগন্ধি চিবুক।
শুভ্র সুবাস আকাশ ছুঁয়ে আসে,
বিস্তৃত নীলে মেলে রাখে সবুজ বসন
আকাশ-পতি সিংহাসন ফেলে নামেন
ফিনফিনে মেঘে।
---- সূর্য নিয়োগে
অন্ধকার সাঁতরায় আলোর মোহে,
একটু না হয় হোক আভার অবসর
রজনী মাতিয়ে রাখুক আরও অন্ধকার।
রক্ত গোলাপ হাতে
রাত, সুরভিত করে তোলে যুবা...
এই মোহ
এই মায়া
ক্ষণিকের অমর মধুরতম কায়া
কোন্ পৃথিবীর পরে মিলবে তোমার!
একান্ত-কথা ভেবে দেখো, একান্তেই।
যে শরীর সকাল দেখে, রোদও রোদনে মাতে,
বাতাস-বন্ধু উত্তরীয় উড়িয়ে পালায় যদি
চকিতে দেখতে পাবে আদুরে দেহ, বন্যা-বহ বুক।
মাটির ভার আর রক্তের হাহাকার নিয়ে
কামনার কুহকে কাল কাটে
এই মানবের।
ফেরাবে কোন্ অভিমানে?
ভালো-মানুষির ফেরানো হাসিতে কাজ কি তার?
দেহের কারুকাজে, সব কাজ পড়ে থাকে,
স্বপ্নের কাহিনি কোন্ পথে জাগরণে আসে,
বসে যায় ভাবনার কোষে, জানা নেই তার।
হাত জানে শরীরের বাঁক, দক্ষ অতি
মনের চেয়েও, কল্পনার চেয়ে অযুত গতি।
তোমার বসন, স্বচ্ছ-কাচ তার চোখের তারায়,
ইশারায় দেখে নেয় পাহাড়ের চূড়া
পার্শ্বদেশ, উপত্যকা, গভীর গিরি।
হাতের যাদু যখন চিবুক ছুঁয়ে যাবে
অবয়বে ঝরণা পাবে!।
বহুদিন ধরে
জলের কণা নেমে আসার স্বপ্নে আকুল
তারা আর শুনবে না মানা...
চিবুক বেয়ে গলিত হাতদুটো নেমে আসে
সহসা ঝোড়ো বুকের অজপাড়াগাঁয়ে।
জন্যশূন্য ভোর, চারিদিকে শুধু ঘোর
পাখির গানের।
উপত্যকা পেরুনো দুঃসাধ্য তার,
দুনিয়ার কোনো নদী, কোনো সমুদ্র-দরিয়ার নেই
এমন শুভ্র-কোমল দেহের বিস্তার!
প্যারিসের মতো পরিপক্ক,
হেলেন হেলাতে পারে
এক আঙুলের হেলনে...
কোমরের কুশলতা সোনার লতায় বাঁধে
তারপর, তৃষ্ণার নদীতে চুমুক।
এত আনন্দ, এত সুখ, প্রেমের কাঁপন
শরীরে লুকানো, রক্তের ভাঁজে ভাঁজে
কত রক্তিম কামনার কলা
জানবে না, ললনার অবুঝ অবহেলা।
যুবার হাতে তাই জিয়ন কাঠি।
মন যদি
মলিন করো তীক্ষ্ণ কটাক্ষের দাগে,
সে আর অনুরাগে বাড়াবে না পা।
জানা আছে প্লোটোনিক প্রেম, --- শরীর শুকিয়ে
বাষ্প করার পক্ক শিল্পমন।
সে তখন, হাওয়ায় হানে
প্রস্ফুটিত বাণ।
তোমারই পরাজয়,... জানবে না এ কায়ার সুখ ---
বাসি-বকুলের মতো দেহ শুকোবে,
শেষ নিঃশ্বাসেই পাবে, অনন্ত নির্বাণ।
নতুন কবিতাগণ
নতুন কবিতারা
খাতায় পড়ে থাকে।
অক্ষরগুলো ক্লান্ত, কলম-বাহনের দীর্ঘ যাত্রায়।
ঘুমিয়ে পড়ে,
দিনশেষের সৈনিকের মতো।
মুগ্ধতা যখন আলো রেখে চলে যায়,
উজ্জ্বল হয় অন্ধকারের পথের রেখা---
মাড়াতে হয় না ধুলো,
পথই খোলা বুকে সামনে আসে।
রেশমি হৃদয়ের ওমে, উষ্ণতায়
তোমার কায়া কাছে আনে।
জীবন
সময়
অস্তিত্ব
মানবী রূপ রাঙিয়ে দেয় সুরভি প্রহর।
প্রতিটি শব্দ অমৃতের পেয়ালায় ডুবিয়ে তোলা,
প্রতি কথা মধুপের কম্পনে কাঁপা,
প্রতি চাহনি, নাগর-বিরহিনী শিরি ---
গিরিপথে ফরহাদ, পাহাড় তার চোখে তুলো।
সূর্য-গ্রহণের পথভোলা পাখিরা পায়
সন্ধ্যার পরশ। দুপুর-ভরা নদীর
আবীর মাখা তারা,
আকাশ-গঙ্গার নিজস্ব অঙ্গন।
পাশাপাশি বসে থাকা
বধির, অভিন্ন-অন্তর বন্ধুর মতো
শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ দেখা,
বুকের অমৃতের ঢেউয়ে
বুক মেলে দেয়া অগণন
কবিতার সখা।
প্রতিশ্রুতি
প্রজাপতির পাখা,
অল্প মেঘের আকাশ, মিহি আলো...
দুপুরেও পূর্ণিমার মতো অলস আভার সূর্য।
সব বৈরিতা বাঁচিয়ে
শখের অসুখ শুধু রাখি।
শীতের ভোরের শরীরে
ধীরে, জ্বরের উত্তাপ আসে
হিম দেহ রক্তের গোলাপ ফোটায়।
এক বেদনা মানে, সমস্ত বেদনার আকার,
একার দুঃখ মানে, অজস্র বুকে সবটুকু ভার।
ফুটে আছে আকাশ গোলাপের মতন,
--- এখন, দৃষ্টি মেলবার,
গুছিয়ে নেবার
অগোছালো মন।