সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল-এর ‘ধারাবাহিক’
ধারাবাহিক/ ১
আমি আর কখনো কাউকে মুখস্ত করবো না,
এক সময় 'গরুর চারটি পা আছে, গরুর চারটি পা আছে'
পড়তে পড়তে, মুখস্ত করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তাম।
কলমও কাঁদে, নিবদাঁত থেকে বের হয় কালিপুঁচ।
কটেজের মতো নির্মাণাধীন মিউজিয়ামে ঘুমুতে যাবো,
বাতাসকে রেখে সাথে নেবো বালিশ আর ওয়াইফাই।
নাতিশীতোষ্ণ সময়গুলো হিজড়াদের মতো,
সামার ওয়ান্ডারফুল, শীত বিউটিফুল এবং গ্রাম্য জীবনও
সেখানে গাছগাছালি আত্মীয়্র মতো মিলেমিশে বাস করে।
নখ কাটা হয়নি; যদি আঙ্গুল কেটে যায়, যদি বৃষ্টি নামে
চুল ঝুলে পড়ছে বটের ঝুরির মতো নিন্মগামী নদীজলে
এরকম কত সহস্র দৃশ্য অদৃশ্য থেকে যায়।
ভাঙ্গা স্কুল থেকে যে লজিং মাস্টার রাষ্ট্রদূত হয়েছে
সে স্ত্রৈন; টাই পরে ঘুমায়। টাই এক ধরণের ফাঁসির দড়ি
কোন হালায় আবিষ্কার করছে এই উদ্ভট উটের শিশ্ন!
ধারাবাহিক/ ২
আমরা এখন কাগজের কাপে চা খাই
ভাবি বিগত খুরি-ভাঁড়ের স্বপ্নের স্মৃতিচিত্র।
বিদ্যুতে আরেক ধরনের জীবন থাকে,
বিদ্যুৎহীন হলেই অনেক কিছু মৃত! স্মৃতির মতো।
প্রাণীর জীবন আর পদার্থের জীবন; দুটোই কাগজের কাপ
অর্জনে, বর্জনে বেঁচে থাকতে হলে গালিও শিখতে হয়।
মানুষ এখন মাস্ক-মুখোশ পরে,
বিশ্বের অর্থনীতি চরম ভঙ্গুর।
অর্থ সাশ্রয়ে এখন থেকে শুধু ১৩ অক্টোবর নয়;
প্রতিদিনই নো ব্রা ডে।
বিদেশের সংসদে কোন এক নারী মন্ত্রি বর্জন করলো
বক্ষবন্ধনি।
এখন মুখবন্ধনিই জীবন্ত বিদ্যুত।
বহুদিন পর একদিন খুরি-ভাঁড়ের স্থলাভিষিক্ত হবে
হারানো মসলিনের মতো বর্জিত ব্রা
এবং কাগজের কাপ!
