একটিমাত্র উপন্যাসেই অবিস্মরণীয় তারা

চিন্তামন তুষারচিন্তামন তুষার
Published : 11 Sept 2022, 09:40 AM
Updated : 11 Sept 2022, 09:40 AM

সময়ের সাথে সাথে, কল্পকাহিনী বা তথ্যমূলক রচনায় কিছু প্রতিভাদীপ্ত লেখক তাদের অন্তর্নিহিত ইচ্ছা এবং অনিচ্ছার প্রকাশে নানা গল্প ফেঁদেছেন। তাদের সেই মহান কাজগুলো বিশ্ব সাহিত্যকে পরিণত এক রূপ দিয়েছে এবং পরবর্তী অসংখ্য লেখককে করেছে প্রভাবিত।

অনেক লেখক আছেন যারা তাদের কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার আগে বইয়ের পরে বই লেখেন, কিন্তু অন্যদিকে, এমন কিছু লেখকও আছেন, যারা শুধুমাত্র একটি বই দিয়ে আমাদের হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে নেন।

এই লেখায় তেমনি ১৮ জন লেখককে নিয়ে একটি সংকলন তৈরী করা হয়েছে যারা একটিমাত্র উপন্যাসের জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। যদিও তাদের অনেকে বিভিন্ন ধরনের লেখা প্রকাশ করেছেন। যেমন, অ্যাডগার অ্যালান পো এবং র‌্যাল্ফ এলিসন। দুজনেই দ্বিতীয় উপন্যাস শুরু করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর আগে এই কাজগুলি সম্পূর্ণ হয়নি বা প্রকাশ করেননি।

১৮ টি বইকে ধরে লেখকের নাম অনুসারে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে সংকলনটি। নিঃসন্দেহে এ পর্যন্ত রচিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এগুলো।

একমাত্র ছাপা উপন্যাসের লেখক

অস্কার ওয়াইল্ড, ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’

যদিও অস্কার ওয়াইল্ড একজন অত্যন্ত সফল নাট্যকার, কিন্তু তার সমগ্র জীবনে তিনি একটি উপন্যাসও লিখেছিলেন। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’ প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে।

‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’ লেখা হয় ভিক্টোরিয়ান যুগে এবং এর কঠোর যৌন এবং নৈতিক নিয়মনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে বসে। উপন্যাসের গল্প এক বিপথগামী যুবককে চিত্রিত করে যার নার্সিসিজম ও জঘন্য আচরণ নিজের পতনের কারণ হয়ে দাড়ায়।

জানা যায়, উপন্যাসটির সম্পাদক পাণ্ডুলিপি থেকে প্রায় ৫০০ উত্তেজনাকর শব্দ মুছে ফেলেছিলেন। তারপরও স্পষ্ট যৌন সুর, তলে তলে সমকামিতা এবং হিংসাত্মক অপরাধের বর্ণনা দারুণ বিতর্ক ও সমালোচনার মুখোমুখি করে উপন্যাসটিকে।

উপন্যাসটি তৎকালীন ভিক্টোরিয়ান সমাজের জন্য কিছুটা তীব্র বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে আজকের দিনে এটি একটি ক্লাসিক।

১০ টি নাটক ও প্রচুর কবিতা, কয়েকটি গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন অস্কার ওয়াইল্ড। যার মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো ‘দ্য ইম্পোর্টেন্স অব বিয়িং আর্নেস্ট’। একমাত্র উপন্যাস প্রকাশের ১০ বছরের মাথায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

অ্যামেলি ব্রন্টি, ‘উয়েদারিং হাইটস’

অ্যামেলি ব্রন্টি বেশ কয়েকটি কবিতা লিখলেও তার একমাত্র প্রকাশিত উপন্যাস ‘উয়েদারিং হাইটস’। ১৮৪৭ সালে উপন্যাসটি ‘এলিস বেল’ ছদ্মনামে প্রকাশ করেন তিনি।

উপন্যাসটি প্রেমের গল্প হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় একটি নাম, যা সাহিত্যের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই জানা। এর চরিত্রগুলো স্বার্থপরতার জন্য সমালোচিত হয়েছিল। তবে মৌলিকতা এবং লেখকের ধীশক্তির জন্য প্রশংসা অর্জন করে।

আজকের দিনে উপন্যাসটি ক্লাসিক বিবেচিত হলেও প্রকাশের পর তুমুল নেতিবাচক সমালোচনার মুখোমুখি হয়। অর্থ্যাৎ ব্রন্টি তার জীবদ্দশায় এর ইতিবাচক অভ্যর্থনা দেখে যেতে পারেননি। কারণ এটি প্রকাশের মাত্র এক বছর পরই তিনি মারা যান।

অ্যামেলি তার বোন শার্লট এবং অ্যানের সাথে কবিতার একটি বই প্রকাশ করেছিলেন যার শিরোনাম ছিল ‘পয়েমস বাই কুরার, এলিস অ্যান্ড অ্যাক্টন বেল’।

অ্যাডগার অ্যালান পো, ‘দ্য ন্যারেটিভ অব আর্থার গর্ডন পিম অব ন্যানটকেট’

অ্যাডগার অ্যালান পো আমেরিকান সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচিত। তিনি সাসপেন্স এবং হরর ধারার মায়েস্ত্রো। তাকে গোয়েন্দা কথাসাহিত্যের প্রবর্তক এবং কল্পবিজ্ঞানের বিবর্তনে প্রধান অনুঘটক হিসাবেও বিবেচনা করা হয়। তার একমাত্র উপন্যাস, ‘দ্য ন্যারেটিভ অব আর্থার গর্ডন পিম অব ন্যানটকেট’ প্রকাশিত হয় ১৮৩৮ সালে। এটি তার অন্যতম প্রধান কাজও বটে।

উপন্যাসটি তরুণ আর্থার গর্ডন পিমকে ঘিরে, যিনি গ্র্যাম্পাস নামক একটি তিমি শিকারী জাহাজে চড়ে বসেন। পিমের জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, বিদ্রোহ এবং নরখাদকসহ বিভিন্ন দুঃসাহসিক কাজ এবং দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে সেই জাহাজে। তাকে রক্ষা করে জেন গাই জাহাজের নাবিকরা। এই জাহাজে চড়ে, পিম সঙ্গী হিসেবে পান ডার্ক পিটার্সকে। দুজনে নানা দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। পিম এবং পিটার্স দক্ষিণ মেরুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে উপন্যাসটি আকস্মিকভাবে শেষ হয়।

পো-এর একমাত্র উপন্যাসটি সুপরিচিত নাও হতে পারে। কারণ “দ্য ফল অফ দ্য হাউস অফ উশার”, “দ্য রেভেন” এবং “দ্য টেল-টেল হার্ট”-এর মতো ভৌতিক গল্পগুলো যে কোনও সময়ের জন্য দুর্দান্ত।

দ্য গার্ডিয়ান জানায় যে পো-এর “অলৌকিক উপাদান সহ ক্লাসিক অ্যাডভেঞ্চার গল্প” উইলিয়াম এস বারোজ এবং হান্টার এস. থম্পসন সহ লেখকদের প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে।

পো একটি ধারাবাহিক উপন্যাস, “দ্য জার্নাল অফ জুলিয়াস রডম্যান” নিয়ে কাজ করছিলেন। ১৮৪০ সাল থেকে “বার্টন’স জেন্টলম্যান’স ম্যাগাজিন”-এ যার ছয়টি কিস্তি প্রকাশিত হয়। কিন্তু ১৮৪৯ সালে তার মৃত্যুর কারণে অসমাপ্ত থেকে যায় এটি।

অ্যালিস মুনরো, ‘লাইভস অব গার্লস অ্যান্ড উইমেন’

বিখ্যাত ছোটগল্প লেখক অ্যালিস মুনরোর একমাত্র উপন্যাস বা ছোট গল্পের চক্র ‘লাইভস অব গার্লস অ্যান্ড উইমেন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে। বইটিকে কিছু সমালোচক উপন্যাস হিসাবে চিহ্নিত করেন। কেউ কেউ ছোট গল্পের চক্র বলেন।

বইয়ের সবকটি গল্প একটি চরিত্র, নায়ক দেল জর্ডানের বেড়ে ওঠার গল্প বর্ণনা করে। গল্পগুলোকে অনেকে নারীবাদী বলে উল্লেখ করেন। কারণ এর নারী চরিত্রগুলো বেশ প্রবল।

‘সিবিসি টেলিভিশন’-এ বইটির একটি টিভি অভিযোজন প্রচারিত হয় ১৯৯৪ সালে। ডেল চরিত্রে তানিয়া অ্যালেন এবং ওয়েন্ডি ক্রুসন তার মা অ্যাডা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

মুনরো “সমসাময়িক ছোটগল্পের মাস্টার” হিসেবে ২০১৩ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এবং আজীবন কাজের জন্য ২০০৯ সালের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ সহ অনেক সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

ইঙ্গেবর্গ বাখমান, ‘মলিনা’

অস্ট্রিয়ান ইঙ্গেবর্গ বাখমান ‘হার্ভার্ড’-এর পণ্ডিত ছিলেন। তিনি কবিতা, বক্তৃতা, রেডিও নাটক এবং ছোট গল্প লিখেছেন প্রচুর। কিন্তু ১৯৭১ সালে প্রকাশিত একটিমাত্র উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি ‘মালিনা’র জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

‘মালিনা’, একই সাথে একজন মহিলার প্রতি দুই পুরুষের প্রেমে পরার বই। এটি নারীবাদী সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য রচনা। ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’ মন্তব্য করেছে: “কেউ কেউ অনুমান করেছেন, বইটির পুরুষ চরিত্রগুলো নিছক পরিবর্তনশীল অহংবোধের দ্বারা সৃষ্ট। ‘আসল’ পুরুষ নয়, লেখকের কল্পনার সৃষ্টি মাত্র।”

উপন্যাসটিতে লিঙ্গ সচেতনতার পাশাপাশি, স্নায়ুযুদ্ধ এবং তার ফলে কীভাবে এটি অস্ট্রিয়ানদের প্রভাবিত করেছিল, সেদিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বাখমান। ফলে তার মৃত্যুর পরে ‘মালিনা’কে সাংস্কৃতিকভাবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

তিনি ২টি অসমাপ্ত উপন্যাস লিখেছেন এবং তার লেখা ৪টি কবিতা সংকলন, ৪টি রেডিও নাটক, ২টি গল্প সংকলনসহ বক্তৃতা, পুস্তিকা ও চিঠি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

কার্ল স্যান্ডবার্গ, ‘রিমেমব্রান্স রক’

আপনি হয়তো কবিতার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী কার্ল স্যান্ডবার্গকে চিনবেন। কিন্তু তিনি ঢাউস সাইজের একটি উপন্যাসও লিখেছিলেন। যার নাম ‘রিমেমব্রেন্স রক’।

উপন্যাসটি মার্কিন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরে।

কার্ল স্যান্ডবার্গ, তার স্ত্রী এবং দুই কন্যার মৃত্যুর পর তার জন্মস্থান এবং ছেলেবেলার বাড়ির উঠোনের পিছনে স্থাপিত ৫ ফুট উচ্চতার গ্রানাইট পাথর “রিমেমব্রেন্স রক” এর নীচে তাদের ছাই সমাহিত করেন।

তিনি তিনটি পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন: দুটি তার কবিতার জন্য এবং একটি আব্রাহাম লিংকনের জীবনীর জন্য। জীবদ্দশায় তাকে “সমসাময়িক সাহিত্যের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব” হিসেবে গণ্য করা হত। বিশেষ করে ‘শিকাগো পোয়েমস’ (১৯১৬), ‘কর্নহাস্কার্স’ (১৯১৮), এবং ‘স্মোক অ্যান্ড স্টিল’ (১৯২০) সহ তার সংগৃহীত কবিতার জন্য।

জুসেপি ডি ল্যাম্পাডুসা, ‘দ্য লেপার্ড’

জুসেপি ডি ল্যাম্পাডুসার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ‘আইল গ্যাটোপাডডো’ (অনুদিত ‘দ্য লেপার্ড’) আলোর মুখ দেখে। এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইতালীয় ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস হয়ে ওঠে।

উপন্যাসটি “রিসোর্জিমেন্তো” (ইতালির একত্রীকরণ) চলাকালীন সিসিলিয়ান জীবন এবং সমাজের পরিবর্তন বর্ণনা করে।

উপন্যাসটি আধুনিক সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে এর মরণোত্তর প্রকাশনার অর্থ এই, যে আমরা কখনই জানব না তিনি এর চেয়ে অর্ধেক ভাল কিছুও লিখতে পারতেন কিনা!

তার স্বল্পপরিচিত কয়েকটি লেখার মধ্যে রয়েছে ‘আই র‌্যাকোনটি’ (গল্পসংগ্রহ)। উপন্যাসিকা ‘দ্য প্রফেসর অ্যান্ড দ্য সাইরেন’, ‘লে লেজিওনি সু স্টেন্ডহাল’।

জে.ডি. স্যালিঞ্জার, ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’

১৯৫১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ জে.ডি. স্যালিঞ্জারের একমাত্র প্রকাশিত উপন্যাস। এর আগে তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’ পত্রিকায় কয়েকটি ছোট গল্প লেখেন এবং কয়েকটি উপন্যাসিকা প্রকাশ করেন। তবে সাফল্যের পরও স্যালিঞ্জার আর কোনো উপন্যাস প্রকাশ করেননি।

‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ প্রকাশের সাথে সাথে লোকসমাজে আলোড়ন ওঠে। এতে হোল্ডেন কৌলফিল্ড নামের একজন বিক্ষুদ্ধ বিদ্রোহী কিশোরের ভুতুরে কর্মকাণ্ডের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। গল্পটি অনেক পাঠকের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে আবার অনেককে অসন্তুষ্ট করে। উপন্যাসটি প্রকাশের পর অধিকাংশ বিদ্যালয় এটি নিষিদ্ধ করে।

জীবদ্দশায় তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাসিকা ও ছোট গল্প প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ‘ফ্র্যানি অ্যাণ্ড জোয়ি’, এবং তার ছোট গল্পের সংকলন ‘নাইন স্টোরিজ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। যেখানে রয়েছে “এ পারফেক্ট ডে ফর ব্যানানফিশ” ও “দ্য লাফিং ম্যান”। স্যালিঞ্জারের শেষ প্রকাশনা ১৯৬৫ সালের ‘হ্যাপওর্থ ১৬, ১৯২৪’। পরে তিনি নির্জন জীবন যাপন করেন এবং ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

বরিস পাস্তেরনাক, ‘ডক্টর ঝিভাগো’

বরিস পাস্তেরনাক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হতে পারেন কিন্তু তিনি তার জীবদ্দশায় একটি উপন্যাসও লিখেছেন। ‘ডক্টর ঝিভাগো’ নামে ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটির পাণ্ডুলিপি রাশিয়া থেকে পাচার করে বিদেশে প্রকাশিত না হলে অন্যান্য লেখার মতো এটিও আলোর মুখ দেখত না।

‘ডক্টর ঝিভাগো’ পাস্তেরনাকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ বলে বিবেচনা করা হয়। যা ১৯০৫ সালে রাশিয়ান বিপ্লব এবং গৃহযুদ্ধের মধ্যে মঞ্চস্থ একটি মহাকাব্যিক প্রেমের গল্প। বইটি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়, এর সমাজতন্ত্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক নিয়মনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার কারণে। পরে এটি মিলানে পাচার করে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পরের বছর, পাস্তেরনাক এই মাস্টারপিসের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দুর্ভাগ্যবশত, পাস্তেরনাক উপন্যাস প্রকাশের দুই বছর পর ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যান এবং আর কোনো উপন্যাস লিখতে পারেননি।

‘ডক্টর ঝিভাগো’ তার একমাত্র লিখিত কাজ ছিল না, যদিও এটি তার প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস মাত্র। তিনি গদ্য ও কবিতার অনেক সংকলন প্রকাশ করেছেন।

২০১৪ সালে প্রকাশিত আমেরিকান নথি প্রমাণ করে যে তাদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বিতর্কিত ‘ডক্টর ঝিভাগো’কে ঠান্ডা যুদ্ধের প্রচারপত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে৷

মিনা লয়, ‘ইনসেল’

মিনা লয় ‘ফেমিনিস্ট ম্যানিফেস্টো’-এর জন্য সবচেয়ে সুপরিচিত। আধুনিকতাবাদী মিনা লয় একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, ‘ইনসেল’, যা তার মৃত্যুর ২৫ বছর পর, অর্থ্যাৎ ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। আবার ১৯১৪ সালে, ইতালির ফ্লোরেন্সে বসবাস করার সময় লেখা ‘ফেমিনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ জীবদ্দশায় অপ্রকাশিত ছিল।

তার একমাত্র উপন্যাস, ‘ইনসেল’ একজন জার্মান শিল্পী ইনসেল এবং একজন শিল্প ব্যবসায়ী মিসেস জোনসের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে। কিছু সমালোচকের মতে, উপন্যাসটি রিচার্ড ওয়েলজের সঙ্গে লয়ের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে লেখা। সন্দীপ পারমার মনে করেন, এটি আসলে তার সৃজনশীল সত্তার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে লেখা।

মিনা লয় ছিলেন একজন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিল্পী, লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, চিত্রকর, ল্যাম্প ডিজাইনার এবং ভবঘুরে। তিনি প্রথম প্রজন্মের আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে মরণোত্তর স্বীকৃতি অর্জনকারীদের একজন। তার কবিতা টি.এস. এলিয়ট, এজরা পাউন্ড, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, বেসিল বান্টিং, গারট্রুড স্টেইন, ফ্রান্সিস পিকাবিয়া এবং ইভর উইন্টার্স দ্বারা প্রশংসিত।

মিনা লয়ের লেখা ‘লুনার বায়দেকার’ সিরিজের ৪টি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

সিলভিয়া প্লাথ, ‘দ্য বেল জার’

সিলভিয়া প্লাথকে আধুনিক ইংরেজি সাহিত্য যুগের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি প্রচুর কবিতা লিখেছিলেন। কিন্তু পুরো জীবদ্দশায় তিনি মাত্র একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দ্য বেল জার’, যেটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল “ভিক্টোরিয়া লুকাস” ছদ্মনামে।

উপন্যাসটি কেন্দ্রীয় চরিত্রের মানসিক অসুস্থতার বিবরণ দেয়। গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র ইস্টার গ্রিনউড অনিদ্রা, বিষণ্নতা, উদ্বেগসহ আরও নানা কিছুর মধ্যে দিয়ে যান। আধা-আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসটি মূল চরিত্রের একটি সৎ এবং অবিরল বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করে। যা তার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রানিত। ফলে প্লাথ সম্পর্কে পাঠকদেরকে একটি অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে উপন্যাসটি।

দুঃখের বিষয়, সিলভিয়া প্লাথ বাইপোলার ও বিষন্নতায় ভুগছিলেন। অবিশ্বস্ত স্বামী এবং একবার গর্ভপাতের কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তিনি তার একমাত্র উপন্যাস প্রকাশের কয়েক মাস পরে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর সময় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ডাবল এক্সপোজার’ লিখছিলেন প্লাথ। কিন্তু প্লাথের স্বামী তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার পরে অসমাপ্ত উপন্যাসটি অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্লাথের উপন্যাসটিকে তার মাস্টারপিস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বেশ কয়েকটি ছোট গল্প এবং কবিতার সংকলন ‘দ্য কলোসাস অ্যান্ড আদার পোয়েমস’ (১৯৬০) এবং ‘এরিয়েল’ (১৯৬৫) প্রকাশ করেন। ১৯৮১ সালে সংগৃহীত কবিতা প্রকাশিত হয়, যেখানে পূর্বে অপ্রকাশিত কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সংগ্রহের জন্য প্থকে ১৯৮২ সালে কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয়, যা তাকে মরণোত্তর এই সম্মান পাওয়াদের মধ্যে চতুর্থ করে তোলে।

রাইনার মারিয়া রিল্কে, ‘দ্য নোটবুকস অব মাল্টে লাউরিডস ব্রিগে’ (অনুদিত নাম)

রাইনার মারিয়া রিল্কে বিংশ শতাব্দীর জার্মান ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। ১৯১০ সালে প্যারিসে বসবাসের সময় রিল্কে তার একমাত্র উপন্যাস, ‘ডিয়া আউফটাইনগেন ডেস মাল্টে লাউরিডস ব্রিগে’ (অনুদিত ‘দ্য নোটবুকস অব মাল্টে লাউরিডস ব্রিগে’) লিখেছিলেন। এটিকে অনেকেই আধা-আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস বলে থাকেন।

উপন্যাসটি এক্সপ্রেশনিজমের শৈলী এবং কৌশল গ্রহণ করে লেখা। এক্সপ্রেশনিজম বিংশ শতকের প্রথম দিকে ইউরোপীয় কথাসাহিত্য এবং শিল্পে প্রকাশ পায়। উপন্যাসটি উজ্জ্বলতায় ভাস্বর গীতিময় অনুচ্ছেদে পরিপূর্ণ।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মাল্টে লাউরিডস ব্রিগে নামের এক যুবক। সে প্যারিসের একটি সস্তা ঘরে থাকেন, যেখানে তার মূল্যবান জিনিসপত্র পচে গেছে। সে দেখতে পায়, প্রত্যেক ব্যক্তিই তাদের নিজের মৃত্যু বহন করছে নিজেদের মাঝে। শহরের অস্পৃশ্যদের থেকে তাকে আলাদা করার জন্য সামান্য একটি লাইব্রেরি কার্ড খুঁজে পায় সে। একটি অভিজাত পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু এবং তাদের ভূত দেখতে পায় বিগ্রে, যে পরিবারের একমাত্র জীবিত বংশধর সে।

জার্মান-অস্ট্রিয়ান লেখক রিল্কের জীবনকে প্রতিফলিত করে উপন্যাসটি। তিনি ‘ডুইনো এলিজিস’ শিরোনামের কবিতার জন্যও বিখ্যাত। প্যারিস রিভিউ অনুসারে, তার একমাত্র উপন্যাসের পাশাপাশি, ১৪ হাজারেরও বেশি চিঠি লিখেছেন তিনি। ক্যাডেট ও কর্মকর্তা ফ্রাঞ্জ কাপ্পাসকে লেখা চিঠির একটি সেট ‘একটি তরুণ কবির কাছে চিঠি’, কবির সবচেয়ে বিখ্যাত রচনাগুলির মধ্যে একটি।

জীবদ্দশায় একমাত্র ছাপা উপন্যাস

আর্থার গোল্ডেন, ‘মেমোয়ার্স অব এ গেইশা’

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘মেমোয়ার্স অব এ গেইশা’ দীর্ঘ ৬ বছর ধরে লেখা একটি উপন্যাস। এর লেখক আর্থার গোল্ডেন জাপানে থাকার সময় গেইশা সংস্কৃতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। পরে তিনি এমন একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যার মা একজন গেইশা ছিলেন। তার বয়ানে ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে গোল্ডেন তার একমাত্র উপন্যাসটি লেখেন।

‘মেমোয়ার্স অব এ গেইশা’ হল বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের জাপানে বসবাসকারী গেইশা সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীভিত্তিক উপন্যাস। এটি ‘নিউইয়র্ক টাইমস’র বেস্টসেলার তালিকায় ২ বছর সময় অতিবাহিত করে।

উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করতে ৬ বছর সময় লাগার কারণ সম্পর্কে গোল্ডেন সিএনএনকে বলেন, আংশিকভাবে তৃতীয়-ব্যক্তি ও প্রথম-ব্যক্তির মধ্যে উপন্যাসের দৃষ্টিকোণকে সামনে পিছনে স্থানান্তর করা এবং চূড়ান্ত খসড়ার আগে দুটি খসড়া ধ্বংস করা।

২০০৫ সালে হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ উপন্যাসটিকে একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত করেন।

উপন্যাস মুক্তির ২০ বছরে লেখক একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন। ২০১৩ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেন যে, আর একটি উপন্যাস লিখছেন তিনি। কিন্তু সেটি আজও প্রকাশিত হয়নি।

মার্গারেট মিশেল, ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’

মার্গারেট মিশেল এমন একজন লেখক যিনি কখনই তার বই প্রকাশ করতে চাননি। অথচ ১৯৩৬ সালে যখন তার প্রথম উপন্যাস ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ প্রকাশিত হয়, তখন সেটি মার্গারেটকে প্রচণ্ড খ্যাতির পথে নিয়ে যায়। যা তিনি সবসময় ঘৃণার চোখে দেখতেন এবং এড়িয়ে চলতেন।

১৯৫৭ সালে কথাসাহিত্যের জন্য পুলিৎজার পুরষ্কার জেতেন মার্গারেট। ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ তার জীবিতকালে প্রকাশিত একমাত্র ‍উপন্যাস। তিনি ৪৯ বছর বয়সে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।

‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ একটি আইকনিক উপন্যাস, যার নাম শোনেননি এমন কোন পড়ুয়া নেই। তাকে তার একজন সহকর্মী বলেছিলেন, যে তিনি উপন্যাস লিখতে সক্ষম নন। এই জেদ তাকে তার পাণ্ডুলিপি প্রকাশকদের কাছে পাঠাতে বাধ্য করে।

মিশেল ‘লস্ট লেসেন’ নামে একটি সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাসিকার লেখক, এটি ১৯৯৬ সালে তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। এখনও বেশ কিছু অপ্রকাশিত কাজ আছে তার। ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ এর চলচ্চিত্রায়ন হয় ১৯৩৯ সালে, যা সর্বকালের সবচেয়ে প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয় এবং সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে এটি অ্যাকাডেমি পুরস্কার জেতে।

র‌্যাল্ফ এলিসন, ‘দ্য ইনভিসিবল ম্যান’

১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয় র‌্যাল্ফ এলিসনের ‘দ্য ইনভিসিবল ম্যান’। এর চমকপ্রদ গল্প সমালোচক এবং পাঠকদের কাছ থেকে সমানভাবে প্রশংসিত। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় বই পুরস্কার জেতে উপন্যাসটি। এটি তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস।

উপন্যাসটির গল্প জাতিগত পরিচয়, উপলব্ধি এবং বিভাজনের বিষয় সামনে নিয়ে আসে।

১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগে এলিসন ‘জুনটিন্থ’ নামে দ্বিতীয় উপন্যাস লেখা শুরু করেন। তবে তার মূল পাণ্ডুলিপিটি আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে এর আংশিক পাণ্ডুলিপি পুনরায় লিখে রেখে যান তিনি। যে পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদক জন ক্যালাহান এবং অ্যাডাম ব্র্যাডলি শেষ করেন এবং ২০১০ সালে ‘থ্রি ডেইস বিফোর দ্য শুটিং’ নামে প্রকাশ করেন।

একমাত্র বইয়ের লেখক

অ্যানা সোয়েল, ‘ব্ল্যাক বিউটি’

অ্যানা সোয়েলের ঘোড়ার প্রতি অনুরাগ ছিল যা পরবর্তীতে একটি শিশুপাঠ্য বই লেখার চালিকা শক্তির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে এবং পরিশেষে তা পশুর প্রতি ভালবাসা প্রচার করে এমন একটি উপন্যাস ‘ব্ল্যাক বিউটি’ গড়ে তোলে। ১৮৭৭ সালে ছয় বছর কঠোর পরিশ্রমের পর ‘ব্ল্যাক বিউটি’ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের মাত্র ৫ মাসের মাথায় সোয়েল ৫৮ বছর বয়সে হেপাটাইটিস রোগে মারা যান।

অ্যানা সোয়েল কখনও লেখক হতে চাননি এবং ৫১ বছর বয়স পর্যন্ত জানাও যায়নি তিনি একটি ক্লাসিক লিখে ফেলবেন। তিনি আসলে এমন একটি কাজ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন যার দ্বারা মানুষ ঘোড়ার প্রতি আরও যত্নশীল হবে এবং ভালবাসা প্রকাশ করতে উৎসাহিতবোধ করবে।

শেষ পর্যন্ত বইটি সম্পূর্ণ করতে সোয়েলের ৬ বছর সময় লেগেছিল। এটি তাৎক্ষণিকভাবে বেস্ট-সেলার হয়ে ওঠে। কিন্তু বইয়ের কাটতি তিনি উপভোগ করে যেতে পারেননি।

জন কেনেডি ট্যুল, ‘এ কনফেডারেসি অব ডান্সেস’

জন কেনেডি ট্যুল একজন প্রতিভাধর লেখক। তার লেখা দারুণ উপন্যাস ‘এ কনফেডারেসি অব ডান্সেস’ প্রকাশিত হয়েছিল তার মৃত্যুর ১০ বছর পর। বইটির পাণ্ডুলিপি প্রকাশক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার চাপে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে তার মা ছেলের দুর্দান্ত এই কাজটি প্রকাশ করার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেন। বইটির জন্য জন মরণোত্তর পুলিৎজার পুরস্কার জেতেন ।

উপন্যাসের নায়ক ইগনাটিয়াস জে. রেইলি, একজন অলস, স্থূল, ভ্রান্ত, স্বঘোষিত পণ্ডিত। সে তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। তার নানা দুঃসাহসিকতার চিত্র তুলে ধরে উপন্যাসটি। এটি নিউ অরলিন্স উপভাষার সঠিক বর্ণনার জন্য প্রশংসিত হয়।

উপন্যাসের চরিত্রটি ট্যুলের নিজের উপর ভিত্তি করে লেখা। গল্পে তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুচ্ছেদের আকারে এসেছে।

রস লকরিজ জুনিয়র, ‘দ্য রেইনট্রি কাউন্টি’

রস ফ্র্যাঙ্কলিন লকরিজ জুনিয়র একজন আমেরিকান লেখক। তিনি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘রেইনট্রি কাউন্টি’-এর জন্য সুপরিচিত। উপন্যাসটি সাফল্যের শীর্ষে থাকাকালীন সময়ে প্রকাশের মাত্র ৩ মাসের মাথায় ৩১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন তিনি।

উপন্যাসটি এক ছোট-শহরের শিক্ষক ও কবি জন শাওনেসির গল্প বলে। যিনি অল্প বয়সে গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈনিক হিসাবে চাকরির আগে এক দক্ষিণী সুন্দরীর দেখা পান এবং তাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তার মানসিক অস্থিরতা তাদের বিবাহকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

‘রেইনট্রি কাউন্টি’ ব্যাপক সমালোচনা ও বাণিজ্যিক সাফল্য দুইই পেয়েছে। বইটিকে আমেরিকান ইতিহাসে অন্যতম একটি সেরা উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বইটি ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর সেরা বিক্রিতর তালিকার শীর্ষেও ছিল। কেউ কেউ এটিকে “গ্রেট আমেরিকান উপন্যাস” বলে মনে করেন। ১৯৫৭ সালে এর চলচ্চিত্রায়ন করেন পরিচালক এডওয়ার্ড দিমিত্রিক।

দুর্ভাগ্যবশত, লকরিজ আমাদের অন্য কোন কাজ দিয়ে যেতে পারেননি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক