২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার বা পিটিএসডি

পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার বা পিটিএসডি

এগন শিল-এর চিত্রকর্ম

আশরাফ আহমেদ আশরাফ আহমেদ

Published : 24 Sep 2026, 04:12 PM

Updated : 24 Sep 2026, 04:12 PM

অনুষ্ঠান চলাকালে হলভর্তি দর্শকের মাঝে মিসেস আফসানা রিয়াদের এহেন আচরণ কারো কাছেই প্রত্যাশিত ছিল না। মিতা অনুষ্ঠানটি ভালো লাগবে বলেই মাকে এখানে নিয়ে এসেছিল। সেও এমনটি কল্পনা করেনি!

মিসেস আফসানার বয়স আশির কাছাকাছি হলেও স্বাস্থ্যটি ধরে রেখেছেন বেশ। তার ওপর ছোটোকাল থেকেই বেছে বেছে পরিমিত খাবারের অভ্যাস এবং ত্বকের নিয়মিত চর্চা করেন বলে অপরিচিতের কাছে তার বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশের বেশি বলে মনে হতো না। মা ও মেয়ে পাশাপাশি দাড়ালে সবাই মিতাকেই মা বলে ধরে নিতো। কিন্তু বছর দেড়েক থেকে হঠাৎ করেই তা বদলে যেতে থাকে।

মিতা প্রতি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মাকে ফোন করতো। ঢাকায় তখন সকাল আটটা কি নয়টা। মিসেস আফসানা ততোক্ষণে প্রাতঃভ্রমণ, গোসল এবং নাসতা সেরে উপন্যাস পাঠে মনযোগ দিতেন। কিন্তু বছর দেড়েক থেকে এর ব্যতিক্রম শুরু হলো। মিতা ফোন করে কথা বলার সময় মায়ের একাগ্রতার স্পষ্ট অভাব লক্ষ করলো। শুধু তাই নয়, আদরের দুই নাতি নাতনীর খোঁজ করা বা বারান্দায় টবে লাগানো কোন ফুলগাছে কি ফুল ফুটলো আগ্রহভরে তা দেখানোর উৎসাহেও ভাটা পড়তে লাগলো। মোট কথা তিনি কোনো কথাই যেন বলতে চান না!

তাঁর চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গিনী কাজের মেয়েটি একদিন ফোন করে জানালো, ইদানিং তিনি খুব সহজেই মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন এবং দুইবেলা খাবার গ্রহণেও অনিয়ম করছেন। মিতা ধারণা করলো স্বজন ও প্রিয়জন পরিবেষ্টিত হয়ে থাকলে হয়তো মায়ের আচরণের ক্রমান্বয়ে অবনতি হতে থাকা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এইসব লক্ষ করে মাস কয়েক আগে ঢাকায় গিয়ে মাকে সঙ্গে করে আমেরিকায় নিয়ে এসেছে।

বয়স্ক লোককে মাঝে মাঝেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। মায়ের জন্য ইন্সিউরেন্স করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। তাই মাকে বারবার সাবধান করে দিয়েছে যেন সহসাই কোনো রোগাক্রান্ত হয়ে না পড়েন। মাকে জিজ্ঞেস করে করে ঢাকা থেকে সাথে করে ঠাণ্ডা-কাশি-জ্বর এবং পেট খারাপের মতো সাধারণ রোগের যতো ওষুধ পাওয়া যায় তা বাক্সভর্তি করে সাথে নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও ভার্জিনিয়ায় পৌঁছেই মিতা এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানসিক রোগ চিকিৎসক বন্ধুর কাছে মাকে নিয়ে গেল। বন্ধুটি মায়ের সাথে অনেক্ষণ আলাপ করে বলেছিল একদিনেই তো কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তবে এই অসুস্থতার আগ পর্যন্ত এবং শিশু-বাল্য-যৌবনকালে তিনি যে যে জিনিস বা পরিবেশ বা কাজ পছন্দ করতেন, তেমন সুযোগ করে দিতে চেষ্টা করতে থাকুন। আমি চার সপ্তাহ পরপর তাঁকে আবার পরীক্ষা করবো।

মনরোগ বিশেষজ্ঞের সেই উপদেশেই মিতা মাকে নিয়ে আজকের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে।

নিউজ-বাংলা নামের সংবাদ পোর্টাল ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় একটি সাহিত্য-সম্মেলন আয়োজন করেছিল। দিনব্যাপী সেই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ওপর দুটি পৃথক আলোচনার সাথে কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও যোগ করা হয়েছিল। ছাত্রজীবনে মিসেস আফসানা রিয়াদ এই ধরনের অনুষ্ঠানে শুধু অংশগ্রহণই করেন নি, বছর পনেরো আগ পর্যন্ত নিজেই তা আয়োজন করতেন। কাজেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এই ধরনের অনুষ্ঠান তাঁর মনের অস্থিরতাকে শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে ভেবেই মিতা মিসেস আফসানা রিয়াদকে এখানে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ব্যাপারটি যে এতোদূর গড়াতে পারে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।

ঘটনাটি ছিল এরকম – নজরুল সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি এবং নৃত্যের পর্বটি মিসেস আফসানা রিয়াদ বেশ আনন্দের সাথেই উপভোগ করলেন। শুধু তাই নয়, দুটি বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য করে আলোচনাটিকে তিনি আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন। রবীন্দ্র পর্বটিও ভালোমতোই চলছিল। বিঘ্নটি ঘটলো এক আবৃত্তিকার স্টেজে ওঠার কিছুক্ষণের মাঝেই। রবীন্দ্র প্রতিভার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভূমিকার এক পর্যায়ে আবৃত্তিকারের কণ্ঠে ‘…তিনি সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হয়েছিলেন’ বাক্যটি শেষ হওয়ার আগেই মিসেস আফসানা রিয়াদ নিজের দুই হাতে দুই কান চেপে ধরে ঘৃণাস্বরে এবং গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘চুপ কর, চুপ কর, আর শুনতে চাই না এই জোচ্চোরের কাহিনি’!

স্টেজে হতবিহবল বক্তা তো বটেই, হলভর্তি দর্শক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলো সামনের তৃতীয় সারিতে এক মহিলা দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাতটি শূন্যে তুলে রেখেছেন। ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে তাঁর দেহটি সামনের চেয়ারে বসা ভদ্রলোকের ঘাড়ে দুমড়ে পড়লো। মিসেস আফসানা রিয়াদ জ্ঞান হারালেন। শোরগোলের মাঝে পাশে বসা মিতা কয়েকজন দর্শকের সাহায্যে মাকে হলের বাইরে নিয়ে এলো।

রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি সার্বিকভাবে অভিনন্দিত হলেও তৎকালীন ভারতের কোনো কোনো মহলে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁদের মাঝে রাজনীতিবিদ গঙ্গাধর তিলক, সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী এবং কবি ও সংগীতজ্ঞ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নাম শোনা যায়। কিন্তু সেসব এতোই দুর্বল ও সীমিত ছিল যে সেই সমালোচকদের সবাই রবীন্দ্রনাথকে সমর্থন ও অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। কাজেই তাঁর নোবেলপ্রাপ্তি সারা ভারতবাসীর কাছেই শুধু নয়, সমগ্র এশিয়া তথা ইউরোপের বাইরের সমস্ত বিশ্ববাসীর জন্যই ছিল গৌরবের। শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড রবীন্দ্র-ভক্ত বলে মিসেস আফসানা রিয়াদকে বাংলাদেশের প্রায় সবাই জানে। তাই আজ রবীন্দ্র-বিরোধিতার এই জোড়ালো প্রকাশকে দর্শক শ্রোতারা মিসেস আফসানা রিয়াদের মস্তিষ্ক বিকৃতি বলেই সাব্যস্ত করলো।

মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বললেন, আপনার মায়ের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে তা ঠিক নয়। তাঁর ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তাকে ইংরেজিতে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার বা পিটিএসডি বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে কোনো অকস্মাৎ এবং অপ্রত্যাশিত আঘাত বা ঘটনা কারো মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে সেই ব্যক্তি দীর্ঘদিন যে মানসিক চাপের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে, তেমন একটি অবস্থা। সংক্ষেপে এই অবস্থাকে আতংকগ্রস্ত বলা যেতে পারে। এই অবস্থায় রোগীরা অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকেন। এই অস্বাভাবিকতাকেই অনেকে মস্তিষ্ক বিকৃতি বলে ভুল করে থাকেন। সাধারণত যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় এ ধরণের রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

মিতাও জানে যে প্রায় প্রতিটি যুদ্ধের পরই যুক্তরাষ্ট্রে পিটিএসডি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশেও যুদ্ধফেরত যুবকদের মাঝে এই লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। বাংলা ভাষায় খুব বেশি না হলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা অনেক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণের আতঙ্ক, মনোবৈকল্য বা ট্রমা নিয়ে পাশ্চাত্যে অনেক সাহিত্য রচিত হয়েছে এবং বিখ্যাত চলচ্চিত্রও তৈরী হয়েছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কীভাবে নরনারীর ভালোবাসাকে এক অসহায় অবস্থায় নিপতিত করেছিল তা দেখা যায় সোফিয়া লোরেন অভিনীত সানফ্লাওয়ার সিনেমায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিশাপ নিয়ে তৈরী হয়েছে মার্লোন ব্রান্ডো অভিনীত ‘দি এপোক্লিপ্স’, এবং টম ক্রুইজ অভিনীত ‘বর্ন অন ফোর্থ অব জুলাই’। সাম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-আফগান যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দি আউটপোস্ট’ এবং ‘দি কিল টিম’। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয়েছিল খান আতাউর রহমান পরিচালিত ও অভিনীত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। শেষের ছবিটি নির্মানের সময় পরিচালকের ভাবনায় ট্রমার কথা মনে ছিল বলে জানা না গেলেও মুক্তিযুদ্ধ-ফেরত আদর্শবান ছাত্ররা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়াকে আজকে দিনে পিটিএসডি ট্রমা বলেই অভিহিত করা যায়।

চিকিৎসক বলে চলেছেন, আতঙ্ক, ট্রমা, বা মনোবৈকল্য নিয়ে শক্তিশালী একটি ছোটগল্প এখানে উল্লেখ করা যায়। প্রায় পঁচাত্তর বছর পূর্বের এক ছোটগল্পে উনিশশ’ সাতচল্লিশে ভারতের স্বাধীনতা বা দেশ বিভাগকালের ঘটনা। তাতে অপহৃত এক কিশোরীর ট্রমা বা মনোবৈকল্যকে অত্যন্ত মানবিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। গল্পটি লিখেছিলেন সাদত হোসাইন মান্টো। বারবার বলৎকারের শিকার, হাসপাতালের অন্ধকার কোনে শুয়ে থাকা সেই কিশোরীকে বড় ডাক্তার বা সরকারী কর্মকর্তা দেখতে এলেন। পর্যাপ্ত আলো পাওয়ার আশায় উর্দু ভাষায় তিনি সহকারীকে নির্দেশ দিলেন, ‘খিরকি খোল দো’ অর্থাৎ, জানালাটি খুলে দাও। ‘খুলে দাও’ শব্দদ্বয় কানে যেতেই মৃতবৎ শুয়ে থাকা কিশোরী দেহের সমস্ত শক্তি দুই হাতে শক্তি সঞ্চার করে ধীরে ধীরে তাঁর পাজামার ফিতা খুলতে লাগলো। মেয়েটি শুধু শারিরীকভাবে নয়, মানসিকভাবেও যে কী ভয়ংকর এক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তা মানবিকতার ভয়াবহ পতনের চিত্র হয়ে পাঠকের চেতনাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ন্যায় আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে।

মিতা ডাক্তারকে বললো কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ তো হয়েছিল সেই ৫৪ বছর আগে। আর তখন ছাত্রাবস্থায় স্বাধীনতার সপক্ষে সোচ্চার থাকলেও এতো বছর পর হঠাৎ করে মা কীভাবে সেই যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আতংকিত হবেন?

ডাক্তার বললো, না তিনি সেই যুদ্ধ দ্বারা আক্রান্ত হননি কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে তিনি মহামূল্যবান জ্ঞান করে অন্তরে ধারণ ও লালন করে আসছিলেন। বাংলাদেশে দুই হাজার চব্বিশ সালের জুলাই-আগস্টে গণ অভ্যুত্থানের পর ঘটতে থাকা ঘটনাবলী তাঁর লালিত স্বাধীনতার মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াতেই তাঁর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

অধৈর্য হয়ে মিতা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলো, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের নোবেলপ্রাপ্তিকে মা হঠাৎ করে কেন ঘৃণা করা শুরু করলেন?

ডাক্তার বলেন, খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন! প্রথমে আমার মাথায়ও একই প্রশ্ন উদয় হয়েছিল। তখন বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রতিটি আমি খুঁজে খুঁজে পড়েছি ও বোঝার চেষ্টা করেছি। এবং তার সাথে আপনার মায়ের লালিত আশা আকাঙ্ক্ষা মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে, যেখানে নারীপুরুষ নির্বিশেষে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করতে পারবে।

কিন্তু গত বছর আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশে নতুন যে সরকার ক্ষমতায় এলো তারা একাত্তরের শত্রু পাকিস্তানকে শুধু বন্ধুই বানালো না, দেশটিকে ধর্মান্ধ ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সব কাজই করে যাচ্ছে। নারী স্বাধীনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নারীকে বোরখায় ঢেকে গৃহবন্দি করা, এবং জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা বদলে ফেলার দাবি প্রকাশ্যেই উচ্চারিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেরে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি লাগামহীন বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের জাতির জনকের স্মৃতি-বিজড়িত ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর রোডের বাড়ি-মিউজিয়ামটি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মব সংস্কৃতির প্রচলন করে সরকারী কর্মচারী থেকে শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনীকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশকে পরাশক্তির ক্রীড়ানকে পরিণত করে সার্বভৌম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ টিকে থাকাই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইসব ঘটনা আপনার মায়ের স্বাধীনতা-ভাবনাকে এতোটাই আচ্ছন্ন করেছে যে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেছেন।

কিন্তু তাতে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়া কি দোষ করলো?

ডাক্তার বললেন, না, আপনার মা রবীন্দ্রনাথের কোনো দোষ ধরেন নি। বাংলার এক নোবেলজয়ী সম্পর্কিত প্রতিদিন যে অসংখ্য সংবাদ প্রচার করা হয়, তাতে প্রতিবার তাঁর নামের আগে ‘নোবেল পুরস্কার বিজয়ী’ শব্দ ক’টি জুড়ে দেয়া হয়। ফলে অনেকের মতো আপনার মায়ের কাছেও সেই নোবেলজয়ী ব্যক্তিটি এবং ‘নোবেল পুরস্কার বিজয়ী’ বাক্যটি সমার্থক হিসাবে বিবেচিত হয়। সেই লোক শান্তিতে নোবেল পেলেও, শান্ত একটি দেশকে তিনি অশান্তিতে ভরিয়ে তুলেছেন, আপনার মায়ের রাগটি এই লোকের ওপর। প্রাণভয়ে সেই লোকের নামটি উচ্চারণ করতে না পেরে, ‘নোবেল পুরস্কার’ শব্দদ্বয় কানে প্রবেশ করতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন।