১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ‘ফল পেয়ে’ উচ্ছ্বসিত সেঞ্চুরিয়ান সালমান

কিছুদিন আগে ইংল্যান্ড থকে অপমানজনকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সেঞ্চুরি করলেন সালমান আলি আগা।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ‘ফল পেয়ে’ উচ্ছ্বসিত সেঞ্চুরিয়ান সালমান

ম্যাচে সালমান আলি আগার জেতা পুরস্কারগুলোর একটি এই বাইক। ছবি: পিসিবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 09:25 AM

Updated : 19 Oct 2026, 10:05 AM

বিভীষিকার সেই ইংল্যান্ড সফরের পর পাকিস্তানের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ। সালমান আলি আগার মনে ছিল প্রতিজ্ঞা। মাঝের সময়টায় হয়ে গেছে অনেক কিছুই। সেই দুঃসময়কে পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি ফিরলেন দারুণভাবেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বললেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস আসে সালমানের ব্যাট থেকে। রাওয়ালপিন্ডিতে ৩৭ রানের জয়ে শুভ সূচনা করে পাকিস্তান।

দেশের হয়ে তার সবশেষ ম্যাচটি ছিল অগাস্টে ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্ট। বাবর আজমের চোটের কারণে হেডিংলিতে সেই টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন সালমান। তিনি ও তার দল সেই ম্যাচে বাজে করায় একাদশ থেকে বাদ পড়েন তিনি পরের টেস্টে। তৃতীয় টেস্টের আগে ঘটে যায় আলোড়ন ফেলে দেওয়া সেই ঘটনা। সিরিজের মাঝপথেই কোচ, বোলিং কোচসহ একগাদা ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তানের বোর্ড। সিরিজের প্রথম ম্যাচে যিনি ছিলেন অধিনায়ক, শেষ ম্যাচের আগে সেই সালমানকে দেশে ফিরতে হয় অপমানজনকভাবে।

Image

সেঞ্চুরি করে ম্যাচের সেরা সালমান। ছবি:পিসিবি। 

ফেরার পর খুব একটা সময় নষ্ট করেননি তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি গ্রেড-১ আসরে খেলতে নেমেই উপহার দেন অপরাজিত ট্রিপল সেঞ্চুরি। এক ম্যাচ পর তার ব্যাট থেকে আসে ৭২ রান, পরের ম্যাচে আবার করেন ১৪৫।

এর মধ্যে তার ক্যারিয়ার আরও একটি বাঁক নেয়। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব হারান তিনি, বাদ পড়েন দল থেকেও। বাকি ছিল কেবল ওয়ানডে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার জিইয়ে রাখতে আঁকড়ে ধরলেন সেটিকেই। জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া সেঞ্চুরিতে জানিয়ে দিলেন, চ্যালেঞ্জে তিনি হার মানছেন না।

ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার বললেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের আশ্রয়েই নিজেকে ফিরে পেতে চেয়েছেন তিনি।

“আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আসলে আমার হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। ওই সিরিজগুলোতে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) আমাকে ধুঁকতে হয়েছে, কিন্তু এর আগে গত চার বছরে আমার এভাবে ভুগতে হয়নি। কিন্তু একজন ক্রিকেটার হিসেবে এই ধরনের সময় আসতেই পারে। আমি শুধু এটাই ভাবছিলাম যে, ফিরে গিয়ে ঘরোয়া ম্যাচ খেলব এবং সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা করব এবং সেটাই করেছি। আমার মনে হয়, এর ফল আমি পেয়েছি।”

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে এক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান থেকেও নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল পাকিস্তানের ইনিংস। চতুর্থ উইকেটের পতন হয় তাদের ১১৮ রানে। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করে হাসান নাওয়াজের সঙ্গে সালমানের ৯৪ বলে ৯৭ রানের জুটি।

সালমান বললেন, চাপের মধ্যেও তাদের পরিকল্পনা ছিল পাল্টা আক্রমণে লঙ্কানকে কাবু করে দেওয়া।

“ওই সময়ে বল বেশ ভালোভাবেই আসছিল। তাই আমি হাসানের সঙ্গে কথা বললাম। আমি বললাম, আমরা যদি এখানে একটা জুটি গড়তে পারি এবং নিজেদের মতো করে খেলতে পারি, আমরা দুজনেই আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় এবং আমরা নিজেদের মতো করেই খেলতে চাই। যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে আমরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারব ও ৩০০ রান করতে পারব এবং আমরা সেটাই করেছি।”

সালমানের প্রায় ১১৯ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে বাউন্ডারির ঝড় ছিল না। বিশেষ করে শুরুর ভাগে। ৪৮ বলে ফিফটি করলেও তখন বাউন্ডারি ছিল স্রেফ তিনটি। বড় শটের চেয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানো ও রানিং বিটুউন দা উইকেট ভালো করার দিকেই তার ছিল বেশি মনোযোগ।

“আমি তখন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। শুধু বলপ্রতি এক রান করে করতে চেয়েছিলাম এবং কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। এজন্য আমাকে জোরে দৌড়াতে হয়েছিল এবং ফাঁকা জায়গাগুলোয় বল পাঠানোর চেষ্টা করছিলাম এবং তা পেরেছিলাম। সত্যি বলতে, আউটফিল্ডও ধীরগতির ছিল। পিন্ডির আউটফিল্ড সাধারণত খুব ভালো হয়, কিন্তু আজ তা একটু ধীরগতির ছিল। সেজন্যই আমাকে জোরে দৌড়াতে হয়েছিল।”