Published : 18 Jan 2026, 12:04 AM
দেশের সংস্কৃতিকর্মীরাও ‘সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ বোঝে না বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যশিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, “ভারত এই জায়গায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। আর এজন্যই এখন পৃথিবীর বুকে তাদের জায়গা কোথায়, আর বাংলাদেশের জায়গা কোথায়? তারা তাজমহলকে কীভাবে পরিচিত করিয়েছে; ‘ভরত নাট্যম’ নাচ কীভাবে এখন মধ্যবিত্ত জনমানুষের মধ্যেও নিয়ে এসেছে!”
বাংলাদেশের আমলারাও ‘সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ না বুঝে বিভিন্ন জায়গায় সংস্কৃতিচর্চাকে বন্ধ করে দিচ্ছেন বলেও মনে করেন শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এই মহাপরিচালক।
সেলিম আল দীন সংগ্রহশালার আয়োজনে শনিবার ঢাকার জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘সীমালঙ্ঘনেই পূর্ণ প্রাণ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশ, সাংস্কৃতিক রাজনীতি, সেলিম আল দীন’ শীর্ষক একক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. কামরুল হাসন খান। সঞ্চালনা করেন আবু সাঈদ তুলু।
নতুন প্রজন্মকে ‘সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ বোঝার আহ্বান জানিয়ে জামিল আহমেদ বলেন, “আমি ‘সালাম’ না দিয়ে ‘নমস্কার’ বললেই তো হিন্দু হয়ে যাব না, বরং একজন হিন্দুকে ‘নমস্কার’ বললে তার সঙ্গে আমার হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। আমাদের সবার জবাবদিহিতা তো মালিকের কাছে, তবে মানুষের কাছে জবাবদিহিতার এত ভয় কিসের?”
নাটক করতে গিয়ে নিজেও ‘সাংস্কৃতিক রাজনীতি’র শিকার হয়েছেন মন্তব্য করে জামিল আহমেদ বলেন, “আমি যখন ‘রিজওয়ান’ নাটকের সংলাপে বলেছি, 'আসালুমুলাইকুম'। তখন কেউ কেউ আমাকে বললো, আমি জামায়াত হয়ে গেছি। আর এখন তো 'নমস্কার' বললে তাকেও অন্য ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হয়। এই ট্যাগ দেওয়াটাও সাংস্কৃতিক রাজনীতি।”
জুলাই অভ্যুথানের মধ্য দিয়ে যে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হচ্ছে বলেও মনে করেন জামিল আহমেদ।
তিনি বলেন, “দুইটা সংবাদপত্র অফিসে আগুন দেওয়া হলো, ছায়ানট পুড়িয়ে দেওয়া হলো। গণঅভ্যুথানকে এক বছরের মধ্যেই 'নরমাইলাইজড' করে ফেলা হয়েছে। রাষ্ট্রই সেটা করেছে।”
রাষ্ট্র পরিচালনায় ভিন্নমতের ‘সম্মতি’ নেওয়ার ব্যাপারও আছে বলে মন্তব্য করেন জামিল আহমেদ।
তিনি বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় আমার ধারণা, অন্তত ৪০ ভাগ মানুষ চুপ করে আছে। তারা ভোট দেবে কিনা, জানি না। আমি নিজেও জানি না ভোট দেব কিনা? তবে আমি চাই নির্বাচন হোক; নির্বাচন হওয়াটা জরুরি।”
সেলিম আল দীনের 'চাকা' নাটক কীভাবে রাষ্ট্রের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক, তাও উঠে আসে জামিল আহমেদের বক্তব্যে।
‘বেহুলার ভাসান’ কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতা নিয়ে বিশ্লেষণও তুলে ধরেন তিনি।
এই আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শাহমান মৈশান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃপা কনা তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন।