Published : 11 Jul 2025, 11:19 PM
কবি আল মাহমুদের নামে ইনস্টিটিউট করার দাবি এসেছে ঢাকার এক আলোচনা সভায়।
তার নামে মিলনায়তনের নামকরণ এবং পুরস্কার প্রবর্তনের দাবিও তোলা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ মোকাবেলায় সংস্কৃতি বিষয়ক কমিশন গঠনের দাবি জানান একজন কবি।
বাংলা সাহিত্যের নেতৃস্থানীয় কবি, ‘সোনালী কাবিন’ এর স্রষ্টা আল মাহমুদের ৯০তম জন্মদিন ছিল শুক্রবার।
এ উপলক্ষে এদিন বিকালে সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে 'কালের কলস' ও 'কালের ধ্বনি' আয়োজন করে 'আল মাহমুদের ৯০তম জন্মদিন; কেন তাঁকে মনে রাখব' শীর্ষক আবৃত্তি ও আলাপ অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশের মাটি, গাছ, রঙ, রূপ, রসকে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে আল মাহমুদ লিখেছেন কালজয়ী অনেক কবিতা।
আলোচকরা বলেন, দীর্ঘ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
তিনি সর্বদায উপেক্ষিত, অবমূল্যায়িত থেকে গেছেন মন্তব্য করে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিবিআই) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, "বাংলা সাহিত্যে দুইজন লোক সব সময় উপেক্ষার শিকার হয়েছেন। তাদের একজন আল মাহমুদ, অন্যজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তাদের নিয়ে খুব বেশি কিছু হয়নি।
"আমি মনে করি আল মাহমুদ কবিতার জগতে অমর হয়ে আছেন। যিনি বাংলা ভাষার মধ্যে নিজেকে অমর করেছেন। তাকে যেন আমরা ভুলে না যাই। তাকে মনে রাখতে হবে।"
জুলাই অভ্যুত্থানেও আল মাহমুদের কবিতা মানুষের মুখে, প্ল্যাকার্ডে ফুটে ওঠেছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদের নামে একটি মিলনায়তনের নামকরণ করার পাশাপাশি পুরস্কার প্রবর্তনের দাবি জানান।
কাজল রশীদ শাহিন তার বক্তব্যে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ মোকাবেলায় সংস্কৃতি বিষয়ক কমিশন গঠনের কথা বলেন।
"দেশীয় সংস্কৃতির পুনঃজাগরণের দিকে সরকার এবং বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টি দিতে হবে।"
গবেষক সৈয়দ জাকির হোসেন আল মাহমুদের নামে ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাব দেন।
কবি ও সাংবাদিক ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সাংবাদিক আবিদ আজম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গীতিকার শহিদুল্লাহ ফরায়েজি, মামুন সারোয়ার, সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান, শরিফ হোসেন হাদী, মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারুল হক।
অনুষ্ঠানে কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেন শাহীন রেজা, বোরহান মাহমুদ।
১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মাহমুদ। ১৯১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজধানী ঢাকায় মারা যান। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।