Published : 24 Jun 2026, 07:19 PM
গুলজার ও কাইফি আজমি উর্দু ভাষার দুই প্রধান কবি। দুজনই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সিনেমা জগতের সাথে দুজনই জড়িয়ে আছেন গান, কাহিনি, চিত্রনাট্য, অভিনয়ের মাধ্যমে। কাইফি আজমি রাজনৈতিক মতাদর্শে ছিলেন কম্যুনিস্ট। তাঁরা উভয়ই কবিতার পাশাপাশি সিনেমার জন্য অসংখ্য গান রচনা করেছেন। উর্দুভাষী এই দুই জনপ্রিয় কবির কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন কবি তারিক সুজাত। বি. স.

গুলজার-এর দুটি কবিতা
জীবন
একে একে সবার কাছেই
মৃত্যু এসে দেয় হানা ;
জীবন যে কেন আসে না?
মৃত্যু
কে জানে
কখন বা
কোথায়
থেমে যাবে গতি।
জীবন নিয়ে
আমি ভীত।
মৃত্যু ধ্রুবসত্য ;
সে যখন আসে
একবারই আসে।

কাইফি আজমি’র দুটি কবিতা
শৌর্য
তুমি সূর্য,
লুকিয়ে যেও না মেঘের আড়ালে।
তুমি চাঁদ,
জেগে থেকো প্রসন্ন প্রভায়।
তুমি তো চপল প্রলোভন,
নিভে যেতে দিও না নিজেকে।
তুমি বিদ্যুৎচমক,
জ্বলে ওঠো বারে বারে।
প্রেম তো এখনো
পরাজয় মানে নি
যত বার যত ভাবে খুশি,
পরীক্ষা করে যাও।
সোমনাথ
প্রতীক ধ্বংসকারী, কেউ যেন কাছে না আসে
এমন কিছু প্রতীক আছে
হৃদয়ে হৃদয়ে যার ঠাঁই
আমাদের স্বপ্নের ঘরে যে তার চিরবসতি!
হে নির্বোধ, আমার হৃদয়ে পাথর ছোড়ার আগে ভাবনায় রেখো,
যেখানে আমরা লুকিয়ে রেখেছি পরম স্বজন,
সেই খানে
গজনী বসিয়েছেন আপন ঈশ্বর।
প্রতিমা যদি ভেঙে পড়ে
সেগুলো আমরা জুড়ে নিতে পারি,
ভাঙা টুকরোগুলোও হৃদয়ে জড়িয়ে থাকে
সেই সব ভাঙা খণ্ডগুলো জুড়ে আরো একবার গড়ি আমাদের চুরমার স্বপ্নগুলো।
কিন্তু, সৃষ্টিকর্তা যদি ভেঙে পড়ে
তাঁকে তো আমরা জুড়তে পারি না
তাঁর ভগ্ন খণ্ডগুলোও যে আর কখনো একত্রিত করা যায় না,
যদি তুমি কুড়িয়ে আনতে পারো, তবে আনো
যদি তাঁকে গড়ে দিতে পারো,
তবে গড়ো।
কিন্তু যদি পরমপিতাকেই গড়তে চাও,
কে জানে কী করে গড়বে তাঁকে
যদি গড়ে তোলো নিজের আদলে, সেটি হবে মহাবিপর্যয়
তখন পৃথিবীতে থাকবে না প্রেম,
থাকবে না সম্প্রীতি
চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে
বিষাদ-বৈরিতা
হবে না অভাব শত্রুতার।
তেমন কোনো ঈশ্বরকে
আমরা মানি না।
টীকা
উর্দু সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি কাইফি আজমির ‘সোমনাথ’ কবিতাটি ইতিহাসের একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হলেও এর অন্তর্নিহিত আবেদন সময় ও ভৌগলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষের স্মৃতি, বিশ্বাস, স্বপ্ন এবং প্রিয় প্রতীকের প্রতি গভীর মমত্ববোধকে স্পর্শ করে।
এই ভাষান্তরে সর্বত্র মূল কবিতার আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়নি। বরং সমকালীন বাস্তবতার আলোয় কবিতাটিকে পুনরায় পাঠ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আজ যখন স্বদেশ ও বিশ্বের নানা প্রান্তে হানাহানি, যুদ্ধ, ধ্বংস এবং ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিচিহ্নের বিনাশ আমাদের ব্যথিত করে, তখন কাইফি আজমির এই কবিতা নতুন অর্থে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এই রূপান্তর সেই অনুভবেরই একটি বিনীত প্রয়াস।