Published : 27 Feb 2026, 02:46 AM
বাংলা একাডেমির দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অসাধুতা এবং অনৈতিকতা নিয়ে আমি বহুবার বলেছি/লিখেছি। এসব নিয়ে লিখে লিখে আমি ক্লান্ত। নতুন করে এই পচে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কথা বলতে রীতিমত ঘেন্না লাগে। কতটা বেহায়া ও অপদার্থ হলে তারা এসব কাজ একের পর করে যেতে পারে ভেবে অবাক হই! এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হওয়াটা কি সব পেয়েছির দেশের মতো কিছু? কী মধু আছে এই প্রতিষ্ঠানে যে আমাদের অযোগ্য ও ব্যর্থ লেখক বা অধ্যাপকরা এর মহাপরিচালক হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন? এমনকি, পরিচালক হওয়ার জন্য তরুণ লেখকদের মধ্যে রীতিমত এক অসুস্থ প্রতিযোগিতাও আমি লক্ষ্য করেছি। কী আছে বাংলা একাডেমিতে? মহাপরিচালকদের অযোগ্যতা তবু মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও অসাধুতা কী করে মেনে নেবো আমরা জাতির মননের প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানের? জুলাই বিপ্লবের পর নিয়োগপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও পুরস্কারের জুরি কমিটির পাণ্ডারা গতবার পুরস্কার নিয়ে যে-অপকর্মটি করেছিলেন, এবারও তাই করলেন। ব্যাপারটা তাদের ক্ষেত্রে এক শনাক্তকরণ চিহ্নের মতো হয়ে দাঁড়ালো।
মোহন রায়হানকে কবিতায় পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হলো, তাঁকে দিয়ে পুরস্কার গ্রহণের মহড়াও দেয়ানো হলো (এই তুচ্ছ পুরস্কারের জন্য এসবও যে করানো হয় জানা ছিল না। বিদেশে বড় বড় পুরস্কারের ক্ষেত্রে করা হয় কিনা জানি না। হলেও আমার কাছে এটা কেমন যেন সামরিকসুলভ এক প্রশিক্ষণের মতো মনে হয়। একজন লেখক শিল্পীর ক্ষেত্রে এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি? লেখক শিল্পীকে এভাবে শৃঙ্খলা শেখানোর মানেটাই বা কি? তাঁকে কি নিজের মতো করে মঞ্চে ওঠা ও নামার অধিকার আর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার স্বাধীনতা দেয়া যাবে না?), তিনি পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে এলেনও। একের পর এক সবার নাম ঘোষণা করা হলো, কিন্তু তাঁর নামটি আর ঘোষিত হলো না। লজ্জা ও অপমানজনক এই কাজটি তারা করেছে প্রকাশ্যে এবং বহু মানুষের উপস্থিতিতে। খাবার টেবিলে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে সেখান থেকে তাকে উঠিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ শিষ্টাচারের পরিপন্থী এই কাজটাই করেছে তারা।


প্রথম কথা হলো, কবিতায় মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তটি নিশ্চয়ই রাতারাতি ঘটেনি, বেশ আগে থেকেই নামটি তারা চূড়ান্ত করেছে। এবং এই চূড়ান্তকরণের কাজটি একা কেউ করেনি, করেছে জুরি বোর্ডের সদস্যরা এবং সর্বসম্মতিক্রমে মহাপরিচালক। মোহন রায়হানের পুরস্কারটি এখন যে-কারণে প্রত্যাহার করা হলো, তারা কি সেই কারণটা আগে জানতো না? যদি না জেনে থাকে, তাহলে এত অজ্ঞলোকদেরকে এই জুরি বোর্ডের সদস্য করা হয় কেন? আরেকটি প্রশ্ন: বাংলা একাডেমি যদিও এখনও কারণটি বলেনি, কিন্তু শোনা যাচ্ছে এবং মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবেদন পড়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে তার পুরস্কারটি প্রত্যাহার করার কারণ কর্নেল তাহেরকে নিয়ে রচিত একটি কবিতা। মোহন রায়হান নিজেও তাই বলেছেন। বুঝাই যাচ্ছে কারণটি রাজনৈতিক। পুরস্কার দেয়া হচ্ছে কবিতায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নয়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোহন রায়হান পুরস্কার পেতে পারেন। কারণ মোহন রায়হান যতটা না কবি তার চেয়ে বেশি রাজনীতিবিদ। এরশাদবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বাংলা একাডেমি পুরস্কারটি দিচ্ছে সাহিত্যে অবদানের জন্য। বাংলা একাডেমি রাজনীতির অজুহাত দেখিয়ে কোনভাবেই এই পুরস্কার স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। তাছাড়া, যদি রাজনৈতিক কারণও হয়, তাহলে সেটা তারা আগে দেখেনি কেন? মোহন রায়হানকে আমি কবি হিসেবে মোটেই উল্লেখযোগ্য মনে করি না। কিন্তু আমার মনে না করায় কারোরই কিছু যায় আসে না, যেখানে বাংলা একাডেমি তার মতো একজন গৌণ কবিকে পুরস্কার দেয়ার জন্য যোগ্য মনে করেছে। যদি যোগ্যই মনে করে থাকে তাহলে এই পুরস্কার স্থগিত, বাতিল বা প্রত্যাহার করা অত্যন্ত অনৈতিক এবং গর্হিত অপরাধ। পুরস্কার ঘোষণা করে তার যে-সুনাম ও গৌরব তৈরি করা হয়েছে, পুরস্কার স্থগিত বা প্রত্যাহার করে সেই সুনাম ও গৌরব কেবল হরণই করা হয়নি, উপরস্তু, তার মানহানি করা হয়েছে। তাকে অপমান করা হয়েছে প্রকাশ্যে এবং এক রকম ঘোষণা দিয়েই। এটি অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। মোহন রায়হানের উচিত মানহানির মামলা করা এবং বাংলা একাডেমির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করা। বাংলা একাডেমির মতো একটি ইতর প্রতিষ্ঠান একজন নাগরিকের সাথে এই বর্বর আচরণ করতে পারে না।
প্রশ্ন এটিও, কেন বারবার সাহিত্যে পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভূমিকাকে বিবেচনায় এনে ঘোষিত পুরস্কার বাতিল করা হয়? গত বছরও তারা একই কাজ করেছে। এর আগেও কয়েকবার করেছে। তাহলে বাংলা একাডেমি বলুক যে তারা সাহিত্যে অবদানের জন্য নয়, রাজনৈতিক ভূমিকায় বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। সঙ্গে এটাও বলুক যে তারা কেবল তাদেরকেই পুরস্কার দেবে যারা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ, বিগত আওয়ামী আমলে যেমনটা আমরা দেখেছি। মহাপরিচালক এই ঘোষণাটি না দিলেও, পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচনার ক্ষেত্রে কার্যত সেটাই কি করছে না? ইসলামপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তান সরকারের আমলেও লেখকদেরকে পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে এমন বিবেচনা খুব একটা কার্যকর ছিল না বলে সেই সময় প্রগতিশীল অনেক লেখকই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আজকে আমরা সেই পাকিস্তান আমলের অপেক্ষাকৃত উদার (শুধুমাত্র বাংলা একাডেমির পুরস্কারের ক্ষেত্রেই বলছি) মনোভাব বিসর্জন দিয়ে বাংলা একাডেমির পুরস্কারটি পুরোপুরি রাজনৈতিক করে ফেললাম কেন? আমাদের তো পাকিস্তান আমলের চেয়ে আরও উদার হওয়ার কথা ছিল। পুরস্কার স্থগিত করার কারণ হিসেবে বাংলা একাডেমির একাধিক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে’ সিদ্ধান্ত আসায় মঞ্চে মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মোহন রায়হানের ব্যাপারে কিছু অভিযোগ উথাপিত হওয়ায় সাময়িকভাবে পুরস্কারটি স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” মোহন রায়হান সম্পর্কে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি আগে অবগত না হয়ে কীভাবে তাহলে এই পুরস্কার অনুমোদন করেছিলেন? তার এই দ্বিমুখী আচরণের ফলে এ কেবল নিজেই নিজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া নয়, এ হচ্ছে পরিচালক হিসেবে পূর্বাপর না ভাবার মতো অযোগ্যতা ও অপরিণামদর্শিতার এক নমুনা। প্রশ্ন হলো, পুরস্কারের ক্ষেত্রেই যদি তাঁর এই অবস্থা হয়, তাহলে বাংলা একাডেমির অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে তিনি কী করছেন সেসব জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। বাংলা একাডেমির কার্যক্রমের ব্যাখ্যা দিয়ে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে, ধরা যাক ছয় মাসে একবার সংবাদ সম্মেলন করে জনগণকে অবগত করা উচিত—এমন দাবী আগেও আমি করেছিলাম। এখন আবারও করছি। কারণ পুরস্কারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বলে আমরা এর অব্যবস্থাপনা দেখতে পাই, কিন্তু যে-সব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে হচ্ছে না, সেখানে কী ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা রয়েছে তা আমরা জানার সুযোগ পাই না। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের করের টাকায় চলে, এবং এর কর্মচারীরা আমাদের করের টাকায় বেতন পাচ্ছে। আমাদের পূর্ণ অধিকার আছে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড, আয় ব্যয় ও সব ধরনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা।
আরেকটি জরুরী প্রশ্ন হলো: কারা জুরী বোর্ডে থাকেন? এবং কিসের যোগ্যতায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় তারা জুরী বোর্ডের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন? তারা কি এমন যুগন্ধর প্রতিভা বা আগে পুরস্কৃত সেই সব লেখক যারা সত্যিকারের প্রতিভা আবিস্কার ও মূল্যায়নের যোগ্যতা রাখেন? পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কেন তাদের নাম ঘোষণা করা হয় না? কার স্বার্থে তাদের নামগুলো আড়ালে রাখা হয়? অনৈতিকভাবে কলকাঠি নাড়েন বলেই কি তাদের নামগুলো আড়ালে রাখার এই গোপনীয়তা? নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি সৎ ও স্বচ্ছ হয়, তাহলে তাদের নাম ঘোষণা করতে তো আপত্তি থাকার কথা নয়। দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্ন: যখন এই জুরী বোর্ড কর্তৃক নির্বাচিত এবং মহাপরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে পুরস্কারের জন্য নাম ঘোষিত হয় এবং পরে উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে যখন সেই পুরস্কার বাতিল বলে ঘোষিত হয়, তখন এই জুরী বোর্ড আর মহাপরিচালক কেন তার প্রতিবাদ করেন না, কিংবা প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন না? তারা কি নিজেদের পছন্দের অপমানটুকু বুঝতে পারেন না? নাকি পেরেও নির্লজ্জের মতো পদ আঁকড়ে থাকার মধ্যেই জীবনের সাফল্যকে খুঁজে পান?
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের যদি সামান্যতম আত্মমর্যাদাবোধও থাকতো তাহলে গত বছর যখন তাঁর ও জুরী বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে ফারুকী যাদের পুরস্কার বাতিল করেছিল, সেটার প্রতিবাদ তিনি করতে পারতেন কিংবা ওই অন্যায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে পদত্যাগ করতে পারতেন। সেটা করতে পারলে তার জন্য অত্যন্ত মর্যাদার ও আত্মসম্মানের হতো। এবং এতে করে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন থাকতো। এবারও ঠিক একই কাণ্ড ঘটলো, এবং তিনি আগের মতোই পদ হারাবার ভয়ে আত্মসম্মানটুকু বিকিয়ে দিলেন। এটি অত্যন্ত লজ্জার। লজ্জার এই জন্যও যে তিনি নিজেও একজন লেখক। এই পদ তো তার কাছে এমন কিছু না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এমন নয় যে এই পদটা হারালে তিনি না খেয়ে মরবেন, বরং উল্টো-- তিনি আবারও শিক্ষকতায় ফিরে যেতে পারবেন এবং ছাত্রছাত্রীদেরকে আত্মমর্যাদার মূল্যবোধটি গৌরবের সাথে বলতে পারবেন।
বাংলা একাডেমি বহু বছর আগেই পচে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান। এর শরীরের সর্বত্র খোচপাচড়ার মতো বিরাজ করছে মহাপরিচালক থেকে কর্মকর্তারা, যারা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নানা ধরনের দুর্নীতি ও সুবিধা শিকারের কলাকৌশল। এমন একটি প্রতিষ্ঠান যখন পুরস্কার ঘোষণা করে, সেখানে যোগ্য লেখকরা যে বঞ্চিত হবেন তা বুঝবার জন্য কল্পনাশক্তির প্রয়োজন হয় না। গত কয়েক বছরে বহু অযোগ্য লেখককে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে কৌতুককর ব্যাপার হলো মোহন রায়হানের মতো গৌণ লেখককে পুরস্কার দিয়েও সেটি আবার প্রত্যাহার করতে হয়। সত্যি বলতে কি, সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞানী ও ওয়াকিবহাল লোকদের দ্বারা যদি জুরী বোর্ড গঠিত হতো তাহলে আমি নিশ্চিত এই পুরস্কার প্রতি বছর নয়, বরং কয়েক বছর পর পর একজন কি দুজনকে দেয়ার মতো লেখক পাওয়া যেত। কিন্তু বাংলা একাডেমি যেহেতু প্রতিবছরই পুরস্কার দেয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর তাই বেছে বেছে অযোগ্যদেরকে এই পুরস্কার দেয়ার ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে হয় যাতে করে পরবর্তী বছরগুলোতেও একই সংখ্যক লোককে পুরস্কার দেয়া যায়। অনেকেই বলতে শুরু করেছে যে বাংলা একাডেমি পাঠকদের জন্য একটা ভালো কাজ করেছে আর সেটা হলো এই যে কাদের বই পড়তে হবে না সেটা তারা পুরস্কার দেয়ার মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে। কথাটা ঠাট্টার ছলে বললেও, ওটা মোটেই মিথ্যে নয়।
বাংলা একাডেমি নিজে যেমন একটি অপদার্থ প্রতিষ্ঠান, তেমনি নিজের গোত্রপরিচয় ধরে ধরে অপদার্থদেরকেই পুরস্কার দিয়ে যাবে আমি তাতে অবাক হচ্ছি না। এই দেশে মোহন রায়হান যদি হয় বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার জন্য যোগ্য কবি, তাহলে মোহন রায়হানের চেয়ে বযোকনিষ্ঠ কোনো কোনো কবিকে কেন তার আগেই দেয়া হয়েছিল! আর যদি বিশ্বাস করতে হয় যে মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেয়া যথার্থ হয়নি, তাহলে বাংলা একাডেমি কেন যোগ্য লেখককে পুরস্কার দিতে বছরের পর বছর ব্যর্থ হচ্ছে? আগে যদিও বা এই পুরস্কারের মান ও মর্যাদা কিছুটা হলেও ছিল, আগস্ট-পরবর্তী এই সর্বশেষ মহাপরিচালকের আমলে এটি তার সবটুকু মান-মর্যাদা হারিয়েছে। মোহাম্মদ আজম কেবল পুরস্কারটিকেই হাস্যকর ও অমর্যাদাকর করেন নি, এই প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদাকেও ধুলিস্যাৎ করেছেন।