Published : 13 Feb 2026, 11:11 PM
চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীসহ ৫৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মোট প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১১৫ জন। তার মধ্যে ১৪টি আসনে প্রার্থী ছিলেন ৯৮ জন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬০ শতাংশের।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আসনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ কোনো প্রার্থী না পেলে তার নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
“সে হিসেবে এবার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাদের এ জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।”
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হয়েছে শুক্রবার। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম- ২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) ফলাফল ঘোষণা করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
এই দুই আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ আসনে আট জন ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১ (মিরাসরাই) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন সাতজন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১২০টি। সে হিসেবে জামানত ফিরে পেতে আসনটিতে সর্বনিম্ন ২৮ হাজার ১৫টি ভোটের প্রয়োজন ছিল।
আসনটিতে জয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান ছাড়া পাঁচ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
চট্টগ্রাম-৩ আসনে ভোট পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৩৪টি। সেখানে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীর অন্তত ১৫ হাজার ১১৬ ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
চার প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী মোস্তফা কামাল পাশা এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলাউদ্দীন ছাড়া অপর দুই জন তাদের জামানত হারাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ছয় জন। এ আসনে প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৮ হাজার ৬১৬। সে হিসেবে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীর কমপক্ষে ২৭ হাজার ৩২৭ ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন ছাড়া অপর চার প্রার্থীর জামানত বাতিল হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭১ টি। ফলে জামানত ফিরে পেতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার ৮৪৬ ভোটের দরকার। সেখানে চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই তার বেশি ভোট পাওয়ায় এক জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে প্রার্থী ছিলেন আট জন। প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮৬টি। ফলে প্রার্থীর জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২২ হাজার ৪৪৮টি ভোটের।
আসনটিতে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান ছাড়া অপর পাঁচ জনের জামায়াত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এখানে। এবার ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮টি। সে হিসেবে প্রার্থীর জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন কমপক্ষে ৩২ হাজার ৬১৯ ভোট।
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফকে। আবার জামায়াত প্রার্থী আবু নাছেরও ছিলেন নির্বাচনী মাঠে।
নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্টের ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের আবু নাছের ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান ছাড়া অন্য তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপি’ জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৪৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৪টি। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের অন্তত ২১ হাজার ৮৬৮ ভোটের প্রয়োজন ছিল। আসনটিতে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপি আবু সুফিয়ান ও জামায়াতের একেএম ফজলুল হক ছাড়া আট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম- ১০ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৬ হাজার ৭৬৯ ভোট। আসনটিতে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামন হেলালী ছাড়া অপর সাত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে চট্টগ্রাম বন্দর ও দুটি ইপিজেডের অবস্থান। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮২টি। সেই হিসেবে জামানত ফেরৎ পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ২৫ হাজার ৮৩৫ ভোট।
তবে আসনটির ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী বিএনপি প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম ছাড়া অপর নয় জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে জামানত বাতিল হয়েছে জামায়াত ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমসহ ছয় জনের।
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু।
মোট প্রার্থী ছিলেন আট জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৩টি। ফলে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৪ হাজার ১৮৬ ভোট।
আসনটিতে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট। তিনিসহ মোট ছয় জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৩ এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৫টি। সে হিসেবে জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ৬২৯ ভোটের।
আসনটিতে সাত প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান ও ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহাজাহান ছাড়া অপর চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন আট জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৯০টি। সে হিসেবে প্রার্থীদের জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৩ হাজার ২৮৬ ভোটের।
সে কারণে এ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির ওমর ফারুক ছাড়া অপর ছয় জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম ১৫ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন তিন জন। সেখানে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৫১১টি। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজারের বেশি ভোটের।
আসনটিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন। এ আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরীর জামানত বাজেয়াপ্ত হযেছে।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বিএনপি-জামায়াতসহ মোট সাত জন প্রার্থী ছিলেন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭২৪টি। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ২১৫ ভোটের।
এ আসনে জয়ী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলী ছাড়া অপর চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।