Published : 11 Feb 2026, 06:46 PM
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার আনসারের এক দলনেতা ‘টাকা নিয়ে’ ‘অবৈধভাবে’ ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন যাদের পরে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বাহিনীর তরফে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের দিন বুধবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তরফে বলেছে, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কাউকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ হওয়ার পরও নির্বাচনি দায়িত্ব পান। পরে এটির ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ তাদেরকেও নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে আনসার।
অপরদিকে বাহিনীটির তরফে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলশান থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি হাতিরঝিলের ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর ‘নিবিড় তদারকি’ করে এমন দুর্নীতির বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে।
অভিযোগ ও তদন্তের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ বানিয়ে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে দায়িত্ব দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা হারে ‘উৎকোচ গ্রহণের’ তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি দেওয়ার’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বাহিনীটি বলছে, “শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নির্বাচনি দায়িত্বের প্রধান শর্ত। ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য কিংবা প্রভাবিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
এবার ভোটের মাঠের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এরমধ্যে আনসারের রয়েছে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি সদস্য।