Published : 31 Jan 2026, 01:04 AM
শান্তিনগরের একটি কলেজে পিঠা উৎসবে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা তদন্ত করে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন রিটার্নিং অফিসার।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের কমিটির সিভিল জজ মো. শামসুল হককে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়। এনসিপি প্রার্থী ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘হেনস্তার শিকার’ হন। তার দিকে ডিম ছোড়া হয়।
পরে এনসিপি অভিযোগ তোলে, বিএনপি প্রার্থীর ‘নির্দেশে’ তার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এমন পরিস্থিতিতে রমনা থানার কাছে ওই ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চান রিটার্নিং অফিসার।
বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ওসি লিখিত প্রতিবেদন দেন। এরপরই ‘বিশৃ্ঙ্খল পরিস্থিতির’ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হল ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে।
ওসি ও অধ্যক্ষ যা বলেছেন
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচারে নেমেছেন ২১ জানুয়ারি থেকে।
কোথাও কোনো জনসভা করলে সে বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা আগে জানানোর বিধান রয়েছে।
রমনা থানার ওসি তার প্রতিবেদনে বলেছেন, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২৭ জানুয়ারির পিঠা উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষই পুলিশকে অবগত করেনি।
তবে পুলিশ ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ জানতে পারে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উৎসবে যোগ দেবেন।
ওসি বলছেন, বিএনপি ও এনসিপির দুই প্রার্থীর এক স্থানে কর্মসূচি জেনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের অবহিত করেন তিনি।
“সেখানে রমনা থানার ফোর্স ও অফিসার মোতায়েন করি এবং উভয়পক্ষকে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শীতকালীন পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করি,” লিখিত প্রতিবেদনে বলেছেন ওসি।
তিনি বলেন, রমনা থানার পুলিশ হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উপস্থিত হয়ে দেখতে পায়, ক্যাম্পাসে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে তার সমর্থনে ১১ দলীয় জোটের ছাত্র শিবির, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত হয়েছে।
অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের আগমন উপলক্ষে তার সমর্থনে ছাত্রদলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়েছেন।
প্রতিবেদনে ওসি বলেছেন, সেদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাটওয়ারী পিঠা উৎসবে যোগ দিলে অনুষ্ঠানে ‘তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির’ উদ্ভব হয়।
“তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সহায়তায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। … বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদানকালে উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে তার অভিমুখে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
“আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবারণ করি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।”
রিটার্নিং অফিসারকে ওসি বলেছেন, ‘সার্বক্ষণিক’ পুলিশের উপস্থিতি এবং ‘তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের’ কারণে ঘটনাস্থলে ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার মত কোনো ঘটনা’ ঘটেনি।
এদিকে কলেজ অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস তার লিখিত প্রতিবেদনে রিটার্নিং অফিসারকে বলেছেন, এ পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থেীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ করেনি। এ উৎসবে প্রচার-প্রচারণার কোনো বিষয়ও ছিল না।
পুরনো খবর
পিঠা উৎসবে গিয়ে 'হেনস্তার শিকার' পাটওয়ারী, রাস্তায় বসে প্রতিবাদ