Published : 09 Feb 2026, 12:03 AM
রাজধানীতে ‘ধানের শীষের’ পাশাপাশি ‘কোদালের’ পক্ষে ভোট চেয়েছেন তারেক রহমান।
রোববার রাতে ঢাকা-১২ আসনে তেঁজগাও শিল্পাঞ্চলে এক নির্বাচনি পথসভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের পক্ষে ভোট চান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে যারা রাজপথে আমাদের সাথে আন্দোলনে ছিলেন তাদের একজন এখানে (ঢাকা-১২ আসন) কোদাল মার্কার প্রার্থী সাইফুল হককে (বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক) বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা তাকে আমাদের প্রার্থী হিসেবে দিয়েছি। “
‘‘ এইখানে (ঢাকা-১২ আসনে) কোদাল জেতা মানেই এখানে ধানের শীষ জেতা, এখানে কোদাল জেতা মানেই এই এলাকার উন্নয়ন হওয়া।”
একটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি অতীতে কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঠিক একইভাবে এখনো একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
‘‘আমরা দুইদিন আগে পত্রিকায় দেখেছি, সেই রাজনৈতিক দলের এক সদস্য ভোটে নকল সিল তৈরি করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়েছে। সেজন্যই আপনাদেরকে (ভোটারদের) আমি বলব, আপনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে সেই নকল সিল দিয়ে অন্য কোনো ফল করতে না পারে- সেই ব্যাপারে আপনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কোদাল জেতা মানেই বিএনপি জেতা।

“কারণ এখানে কোদাল জিতলে বিএনপি তথা ধানের শীষ সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।“
তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমাদেরকে আজকে একটি শপথ বাক্য পাঠ করতে হবে যে, এই নির্বাচনি সভা আমাদেরকে আজকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হতে হবে দেশ গঠনের রাজনীতি, আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি।”
ঢাকা-১২ আসনে পথসভা শেষে তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত বিএনপির মুখপাত্র দৈনিক দিনকালের অফিস পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। এ পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও সম্পাদক। তিনি সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সবশেষ রাত ১১টায় বাড্ডার সাঁতারকুলে পথসভায় ঢাকা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের পক্ষে ভোট চান বিএনপি চেয়ারম্যান।
রোববার একদিন মোট ৭টি নির্বাচনি আসনের পথ সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
নিজের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭ এ ইবিসি চত্বরে বিকাল সাড়ে ৩টায় পথসভায় নিজের জন্য ভোট চেয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি।
এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৬ এ আমিনুল হক, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ঢাকা-১৪ আসনে সানজীদা ইসলাম তুলি, ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি এসব এলাকার পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
জনসভার এক স্থান থেকে আরেকটিতে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই ধারে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়। মানুষের ভিড় পেরিয়ে সাতটি আসনের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করতে তারেক রহমানের সাড়ে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিটি পথসভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, কী কর্মসূচি নেবে, কীভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে তা বিভিন্ন পথসভায় তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আপনাদের সামনে অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা এসেছেন, তারা অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু চিন্তা করে দেখেন, এই মুহূর্তে একমাত্র বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দলের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই। একমাত্র কর্মসূচি একমাত্র পরিকল্পনা আছে বিএনপির।
“এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে একমাত্র বিএনপি হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল যারা দেশকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রাখে।”
পথসভাগুলোতে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে ঢাকার বিভিন্ন আসনে বস্তিবাসীদের স্থায়ী বাসস্থান, জলাবদ্ধতা দূর করা, হাসপাতাল নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট প্রশস্ত করা, যানজট নিরসন, খেলার মাঠ তৈরি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ঢাকা গড়া হবে।
সোমবারের প্রচারণা
রাজধানীতে টানা দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রচার চালাবেন বিএনপি প্রধান। বেলা ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনে নিজের নির্বাচনি এলাকা বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে পথসভা করে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি।
এরপর ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকা কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে পীর জঙ্গি মাজার রোডে দুপুর ১টায়, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে দুপুর ২টায়, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর নির্বাচনি এলাকায় যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে দুপুর ৩টায়, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনি এলাকায় জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে বিকাল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন নির্বাচনি এলাকায় ধূপখোলা মাঠে ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের নির্বাচনি এলাকা লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় পথসভা করবেন তিনি।