Published : 23 Jan 2026, 03:27 PM
দেশের খাদ্য যোগানে উত্তরবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখলেও এ অঞ্চলকে ‘ইচ্ছে করে’ বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে; সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। সৎ মায়ের মতো উত্তরবঙ্গের সাথে আচরণ করা হয়েছে।
“এই উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ, এই উত্তরবঙ্গ দেশকে খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। আর সেই উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে ইচ্ছা করে।”
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন শফিকুর।
তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গকে আগামীতে আমরা আর কাউকে পিছিয়ে রাখতে চাই না। আপনাদের সকলের হাতে মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী, প্রত্যেকটা নাগরিককে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই।

“গোটা উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনি কলগুলো খুলে দিতে চাই, শ্রমিকদেরকে কর্ম ফিরিয়ে দিতে চাই।”
জামায়াত আমির বলেন, “ভাই আমাদের কাছে কোনো কার্ড নাই। আপনারা সবাই ভাই-বোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড গুঁজে দিতে চাই। আপনাদের সেই ভালোবাসা দিয়ে আমরা একটা বঞ্চনা, অবিচার এবং দায়-দেনা মুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই।
“কারো দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না। কে কার উপর দয়া করবে? জনগণের ট্যাক্সের পয়সা নিয়ে পরের ধনে পোদ্দারি—এ আমরা করব না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষ বলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়ন জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত।
“আমরা এবার বলব তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছিল, এখন ব্যালেন্স হওয়া দরকার—তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।”
‘নদী মরে গেল কেন’
এদিন সকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে উত্তরে রওনা দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “চারটা নদী, বিশাল নদী আল্লাহ তাআলা এই উত্তরবঙ্গকে দান করেছিলেন—তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, আত্রাই এবং করতোয়া। আজকে আসতে আসতে উপর থেকে দেখলাম নদী নয়, মরুভূমি। মরে কঙ্কাল আর ধূ ধূ বালু।
“শরীরের শিরা-উপশিরা রক্তকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেয়, তাই আমরা বাঁচি। যদি ওই রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মানুষ মারা যায়। আমাদের এই নদীগুলো আল্লাহর দান, এই নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে।”

জামায়াত আমির বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশবাসী, আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আপনাদের মূল্যবান ভোটে, সমর্থনে ১০ দলের প্রার্থীদেরকে আপনারা বিজয়ী করে পাঠান যাতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আমরা কথা দিচ্ছি—শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবন ইনশাআল্লাহ প্রাণচঞ্চল হয়ে ফিরে আসবে।
“আমরা এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলাতে চাই। বুক ফুলিয়ে বলতে চাই, বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর সময় চাই, ইনশাআল্লাহ। আপনারা যখন আমাদেরকে ভালোবাসা দিচ্ছেন, তখনো পাশে এসে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা যদি কাজ করি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী, এই এলাকা পেছনে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। একে বঞ্চিত করে পেছনে রাখা হয়েছে।”