Published : 25 Jan 2026, 12:14 AM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী জোটের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রাতে রোববারের খেলা স্থগিত করেছে এ প্রতিযোগিতার আয়োজক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটি।
ফুটবল প্রতিযোগিতা চলার মধ্যে ওই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা শুরু হয়। এরমধ্যে ফেইসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়ে তোপের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম।
তিনি ফেইসবুকে জামায়াতে ইসলামীর ওই সভার প্রচারণামূলক পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “আগামীকাল দুপুর ২টায়, ইনশাআল্লাহ।”
এর পরপরই ফেইসবুকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, জকসু প্রতিনিধির শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় উপেক্ষা করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণা করা ‘অনভিপ্রেত’।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাসান রাব্বি ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “ক্রীড়া কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক জামায়াতের সমাবেশের প্রচারণা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়া খেলা পেছিয়ে সমাবেশ করা কি ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা নয়?”
আল শাহরিয়ার শাওন নামে আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, “একই জায়গায় আগামীকাল (রোববার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগীয় খেলা। অথচ সেখানেই জামায়াতের স্টেজ বানানো হচ্ছে। খেলার মাঠের ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে কনসার্ন না দেখিয়ে ক্রীড়া সম্পাদক সমাবেশের প্রচারণায় ব্যস্ত।”
এ বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার পোস্ট নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়েছেন। আমার সর্বোচ্চ প্রাধান্য শিক্ষার্থীরাই।”
জামায়াতের সভার কারণে খেলা স্থগিত হবে কি না-এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমি জানিয়েছি, এক দিনের বেশি যেন খেলা বন্ধ না থাকে। কারণ নির্বাচনের আগেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটি আন্তঃবিভাগ এ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। রোববার সকাল ৯টায় দর্শন বিভাগ বনাম মনোবিজ্ঞান বিভাগ; ১০টায় আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ বনাম রসায়ন বিভাগ এবং বেলা ১১টায় লোকপ্রশাসন বিভাগ বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের খেলা হওয়ার কথা ছিল।
ধূপখোলার এ মাঠে বেলা ২টায় ঢাকা ৬ আসনে ১০ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মান্নানের নির্বাচনি সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। এতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তৃতা করার কথা।
এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রাত ১০টার দিকে রোববারের খেলাগুলো স্থগিত করার তথ্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের উপ পরিচালক গৌতম কুমার দাস।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আগামীকাল (রোববার) একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম থাকায় খেলাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা প্রত্যেক দলকে সেটা অবগত করেছি।”
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রতিযোগিতা শেষ করার জন্য প্রতিদিন একাধিক খেলা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) খেলা বন্ধ থাকলে তা অনিশ্চয়তায় পড়বে।”
সূচি অনুযায়ী রোবচার খেলা হবে কি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। উপাচার্য ফোনে জানিয়েছিলেন জামায়াত একটি প্রোগ্রাম করতে চায়, এরপর আর কোনো সিদ্ধান্ত আমার কাছে আসেনি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাকে এসএমএস করেও উত্তর মেলেনি।
ধূপখোলা মাঠে দলের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক কামরুল আহসান বিডিনিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন, “আমরা সিটি করপোরেশন, ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ) ও রিটার্নিং অফিসের অনুমতি নিয়ে মাঠে সমাবেশের আয়োজন করছি।"
এদিকে ফেইসবুকে দেওয়া পোস্ট ঘিরে সমালোচনার পর রাতে তার আগের পোস্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস।
তিনি লেখেন, “ধূপখোলা মাঠের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো লিখিত অনুমতি নেই, কেবল মৌখিক অনুমতি রয়েছে। মাঠের পূর্ণ এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের।“
তার দাবি, জামায়াত সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি করছে এবং উপাচার্যের নির্দেশে খেলা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।