Published : 09 Feb 2026, 09:12 AM
গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে নির্বাচনি প্রচার তুঙ্গে। বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সমর্থন থাকলেও ১১ দলীয় জোটসহ জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষ করে গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিভক্তির কারণে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পথ সহজ নয়। ভোটার সংখ্যা, পোস্টাল ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নির্বাচনি উত্তেজনা আরও বেড়েছে বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার আগমনের কারণে।
গাজীপুর-১: ইতিহাস লিখতে চায় বিএনপি
কালিয়াকৈর উপজেলা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিনটি থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান। আর ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শাহ আলম বকশী।

এই আসনটি দীর্ঘ সময় ধরেই আওয়ামী লীগের কব্জায় ছিল। নিকট অতীতে এখানে বিএনপি জয়ের কোনো ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগ মাঠে এবার বিএনপি এখানে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়।
এ আসনের ভোগড়া এলাকার ভোটার আক্রাম হোসেন বলছিলেন, “এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি প্রায় দুই দশক কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। অর্থবিত্তে তিনি অন্য প্রার্থীদের চাইতে পিছিয়ে নেই।
“এ আসনে বিএনপি থেকে বেশ কয়েক নেতা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারা মনোনয়ন না পাওয়ায় দ্বন্দ্ব ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তারা সবাই এখন দলীয় প্রার্থী মজিবুর রহমানের পক্ষে এক সঙ্গে কাজ করছেন।”
এ আসনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শাহ আলম বকশী সাবেক আমলা। এলাকায় জনপ্রিয়তা রয়েছে। শাহ আলমের পক্ষে জামায়তে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তাদের নারী কর্মীরা গ্রাম পর্যায়ে বেশ সক্রিয়। তারা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এ আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
গাজীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ১৬ হাজার ৪৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৫, আর নারী ৩০ লাখ ৬০ হাজার ৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১২ জন।
এ আসনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৪৪৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৭৬০ জন এবং নারী ৬৮৫ জন। এ আসনে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
গাজীপুর-২: বিরোধ মিটেছে, তবু…
এই আসনের বিএনপির প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মেয়র সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে।
মঞ্জুরুলের পক্ষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। প্রতিদিন তিনি ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জনসংযোগ করছেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, “এর আগে এ আসনে টঙ্গী থেকে মো. সালাহ্ উদ্দিন সরকারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন সশরীরে দলীয় প্রার্থী রনির পক্ষে কাজ করলেও ভেতরের বিরোধ কতটুকু মিটেছে তা টঙ্গীতে পাওয়া ভোটের সংখ্যাতেই বুঝা যাবে।”
আসনটিতে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আলী নাছের খান।
তার পক্ষে জামায়াতে ইসলামীসহ দলটির ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান গাজীপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। তিনি এ আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
আলী নাছের খান প্রতিদিন নগরজুড়ে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকের জয়ের বিকল্প ভাবছেন না।

এ আসনটি গাজীপুরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ আসন মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। কারণ গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, শিল্প পুলিশের কার্যালয়, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও জেলা পর্যায়ে সরকারের সব দপ্তর এ আসনে অবস্থিত।
গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্পকারখানা এ আসনে যুক্ত রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৬৯ জন, নারী ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৯১৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।
এ আসনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ২৩৪ জন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ২৩২ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার দুজন।
গাজীপুর-৩: প্রার্থী বদলে সুবিধা বিএনপির
শ্রীপুরের এ আসনে বিএনপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী।
শ্রীপুরের মাওনা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, “আসনটিতে বেশ কয়েকজন প্রার্থী বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চাইলেও পরে তারা সরে দাঁড়ান। এখন বিএনপির সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। শিল্প ও গ্রাম এলাকা নিয়ে গঠিত শ্রীপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের ভোট এখানে একটি বড় ফ্যাক্টর। বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ক্লিন ইমেজের হওয়ায় তিনি ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন।”
আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী সদর উপজেলার মির্জাপুর, ভাওয়ালগড় ও পিরুজালী ইউনিয়নে এবং শ্রীপুরে কিছু এলাকায় অনেক ভোট পাবেন বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা। ইজাদুরও নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলছেন, “এ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমে মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নির্বাচনি মাঠ তৈরি করেছিলেন। পরে তাকে প্রত্যাহার করে রিকশা প্রতীকের মুহাম্মদ এহসানুল হককে প্রার্থী করা হয়। যদিও তিনি এলাকায় খুব পরিচিত নন। তবু ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এ আসনে মুহাম্মদ এহসানুল হক জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
শ্রীপুর উপজেলা ও সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং নগরীর একাংশ নিয়ে গঠিত গাজীপুর ৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৩ হাজার ২২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৫ জন ও হিজড়া ভোটার সাতজন।
এ আসনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ১৩৪ জন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ২৪৭ জন এবং নারী ভোটার ৮৮৭ জন। এ আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাজীপুর-৪: দ্বিমুখী লড়াই
কাপাসিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাাজর ৫৫৬ জন। আসনটি আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বাড়ি এই কাপাসিয়ায়।
আওয়ামী লীগের ভোট এ আসনে ‘বিরাট ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়াবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে আসনটিতে বিএনপি অনেক শক্তিশালী হলেও জামায়াতে ইসলামীও এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ১১ দলীয় জোটের নেতারা সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। বিশেষ করে জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মরহুম আ স ম হান্নান শাহের ছেলে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান এ আসনের প্রার্থী। 
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার আসন পুনরুদ্ধারে করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন রিয়াজুল হান্নান। তার বাবার সময়ে কাপাসিয়ায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা সাধারণ মানুষের সামনে আনছেন। দলীয় কোন্দল থাকলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ভোটারদের পাঁচটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার করছেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, জামায়াতের প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবী ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাব্কে কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি এলাকায় জনপ্রিয়। অনেক আগে থেকেই তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একজন সুবক্তা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতের সুসংগঠিত নেতাকর্মী ও নারীকর্মীরা নির্বাচনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৯ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৪৮।
গাজীপুর-৫: ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
এ আসনে সাত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. খায়রুল হাসান (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) ও জনতার দলের আজম খানের (কলম) মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ভোটারররা বলছেন, এ আসনে ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ফজলুল হক মিলনের অবস্থান সুসংগত হলেও তিনজন প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন।
ফজলুল হক মিলন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা এবং দুই বারের সংসদ সদস্য। তিনি ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা হয়েছেন। তিনি একজন সুবক্তা। এলাকায় রয়েছে সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী। তিনি এলাকায় তার একক নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। তিনি এ আসনে জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী।
এখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে তারা সেখানে শক্তিশালী। তারা ভোটের জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। পরিবর্তনের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। করছেন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী খায়রুল হাসান বলছেন, “এলাকার মানুষের যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বেছে নেবেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করে সুশাসনের একটি জনপদ গড়ে তুলব এবং সবাইকে নিয়ে আধিপত্যবিরোধী একটি নগর উপহার দেব।”
এ আসনে আরেক প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান মনোনয়ন পেয়েই এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তাদের সংগঠন নির্বাচনে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের ‘প্রকৃত ইসলামী দল’ দাবি করে জনগণের কাছে যাওয়ায় মানুষ তাদের ব্যাপকভাবে গ্রহণ করছে বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, “হাতপাখার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। সুষ্ঠু ভোট হবে বলে আশা করছি। জনগণ এবার হাতপাখাকে নির্বাচিত কবেন বলে আশা প্রত্যাশা করছি।”
এ আসনে জনতার দলের কলম প্রতীকের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আজম খান এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বলছিলেন, “জনগণের দল হিসেবে এলাকার মানুষ জনতার দলের কলম প্রতীকে ভোট দেবেন। কালীগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনতে চাই।
“যেখানে মাদক, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য থাকবে না। সমভাবে এলাকার উন্নয়ন হবে। অবহেলিত এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ করবো। এ ছাড়া এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র রক্ষা করতে বেলাই বিলকে রক্ষা করা হবে।”

তার অভিযোগ, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো ঠিক আছে বলে মনে করি না। কোনো একটি বিশেষ দলকে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছে। নির্বাচনে যদি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে মার্কা দেখে নয়, প্রার্থী ও তার যোগ্যতা দেখেই মানুষ ভোট দেবে। আমরা চাই নতুন রাজনৈতিক দল এবং নতুন নেতারা উঠে আসুক।”
অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী ফজলুল হক মিলন বলেন, “বহুদিন পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচনের জন্য সীমাহীন ত্যাগ আমরা স্বীকার করেছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আমি নির্বাচিত হলে আমার আসনের গণমানুষের সব চাহিদা পূরণ করব।”
জেলার পূর্বদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা, সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গাজীপুর-৫ আসন গঠিত।
আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন।
এ আসনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধিত ভোটার ৩ হাজার ৬৭৭ জন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩২ জন এবং নারী ৬৪৫ জন।