Published : 24 Jan 2026, 09:37 PM
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নমনীয়তা ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে মনে করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে টাকার খেলা চলছে। নির্বাচনের ব্যয় কমাতে নির্বাচনি ব্যয়ের অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক বা একাধিক নির্বাচনি আসনের জন্য নির্বাচনি ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছিল সুজন। কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এর ফলে অতীতের ব্যবস্থাই যেন বহাল রয়েছে। নির্বাচনে অপতথ্য ছড়ানো বন্ধেও নির্বাচন কমিশনকে তৎপর হতে হবে।”
বদিউল আলম বলেন, “আজকে আমরা যখন সুজন এর পক্ষ থেকে ‘ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠানের’ আয়োজন করতে যাচ্ছি তখন কোনো কোনো দল বা প্রার্থী শর্ত আরোপ করছে, ‘ওই দল বা ওই প্রার্থীর’ সঙ্গে আমি বা আমরা এক মঞ্চে উঠব না’। এটা অনাকাঙ্খিত। আমরা মনে করি, পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রীতি-নীতি মেনেই সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত।
“আমরা দেখছি কোনো কোনো প্রার্থীর ওপর ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দিক থেকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যেতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
তিনি বলেন, ইসির বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেই অনেক দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। জনগণের কাছে এটা প্রত্যাশিত নয়।
এবার নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী কম করায় রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার রক্ষা না করে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এবার নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ৭৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা মোট প্রার্থীর ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া নারীর সংখ্যা মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
দিলীপ কুমার বলেন, “এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে যে অঙ্গীকার করেছে তা রক্ষা করেনি, বরং মনোনয়নের ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্যান্য বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, যা হতাশাব্যাঞ্জক।”