Published : 22 Jan 2026, 02:10 AM
নির্বাচনের ডামাডোল শুরুর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা, রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের মধ্যে এখন ভোটের মূল পর্ব- প্রচার শুরুর অপেক্ষা।
আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার থেকে ভোটারদের কাছে যেতে প্রস্তুত ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে দুই বড় নির্বাচনি জোটের প্রার্থী যেমন রয়েছেন, তেমনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি আছেন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্ররাও।
যাচাই-বাছাইয়ের লম্বা প্রক্রিয়া শেষে বুধবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রচারে নামার প্রস্তুতিও সেরেছেন। নির্বাচনি সমাবেশে দুই দল শুরু করবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।
তবে তবে এর আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছিলেন ভোটের মাঠে। এলাকায় এলাকায় নানা উসিলায় ভোটারদের কাছে যাওয়া আসা করেছেন তারা। এ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি সবার জন্য সমান সুযোগও চাচ্ছেন তাদের সবাই।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক আগে এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি সেটিকে আরও উন্নতির সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক আব্দুল আলীম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তফসিল ঘোষণার পরে যে রকম ছিল, অনেকের মধ্যে নানা রকম সন্দেহ ছিল, নানা রকম অপপ্রচার ছিল পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাবে।
“কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে, ওইরকম খারাপ হয় নাই। বরং এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে, ভালোই আছে। তবে এটার আরও উন্নত করার সুযোগ আছে।”
এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে, যিনি সপ্তাহখানেক পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরপর বিভিন্ন স্থানেও খুনোখুনির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী খুন হয়। শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণ, মব সহিংসতার মত বিভিন্ন ঘটনায় ‘সামান্য উদ্বেগ’ থাকার কথা সপ্তাহ দুই আগে বলেছিল নির্বাচন কমিশন।
আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দুদিন আগে মিরপুরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের জন্য ‘ভোট চাইতে যাওয়া’ কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির সংঘাত হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দল দুটি।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ‘ভণ্ডুলের প্রচেষ্টা’ থাকার কথা তুলে ধরে সেদিকে খেয়াল রেখে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বলেন, “যারা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে আছে, তাদেরও খেয়াল রাখতে হবে, যেহেতু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা রকম প্রচেষ্টা আছে, এটাকে ভণ্ডুল করা যায় কিনা, কোনোরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা যায় কি না, এজন্য তাদেরকেও খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে কেউ কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি খারাপ করতে না পারে। এবং এভাবে করলে শেষ পর্যন্ত আশা করা যায়, ভালো থাকবে।”
ভালো নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমীন টুলী বলেছেন, “সেই মাত্রায় কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক হয়নি, যা ভোটারদের নিরাপদ বোধটা জাগিয়ে তোলে যে, ‘না, আমি নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারব। আমি যে দলকে ভোট দিই না কেন, যাকে দিই না কেন, পরবর্তীতে আমি কোনো বিপদে পড়ব না’। এই যে, নিরাপদবোধ, সেখানে কিন্তু কাজ ওইভাবে হয়নি।”

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে।
“তারা যদি নির্বাচনকে ঝামেলায় না ফেলতে চায়, নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের হানাহানি বা ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোটারকে বাধা দেওয়া বা কোনো প্রার্থীকে বাধাগ্রস্ত করা, তার প্রচারণায় বা কোনো রাজনৈতিক দল আরেকটার বিরুদ্ধে এআই ব্যবহার করে সোশাল মিডিয়াতে বড় ধরনের কোনো ডিজাস্টার না করে ফেলে।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমীন টুলী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিটা আরও একটু উন্নত করা দরকার। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, প্রায় ১৬-১৭ লাখ লোক নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবে। তাদেরকে সুশৃঙ্খল রাখা নির্বাচন কমিশনারদের পক্ষে কঠিন।
“তারাও সঠিক কাজটা করবে, আইন অনুযায়ী কাজটা করবে, সবার সহযোগিতা এখানে দরকার। যদি সত্যিই আমরা ভালো নির্বাচন করতে চাই, সরকারের সহযোগিতা যেমন দরকার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং যারা ভোটকেন্দ্রে কাজ করবে তারা। এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে যারা কাজ করছে।”
সবার জন্য সমান সুযোগ নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণ ঘটনা হলেও এবার সেটা প্রকট আকারে দেখার কথা বলেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম।
তিনি বলেন, “এবার হয়তো অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ শুরু থেকেই বেশি আছে। এবং এটা প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত চলে গেছে এই নালিশ।

“কিন্তু সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশনকে যদি সহায়তা না করে, আপনি ধরেন যে আচরণ বিধিমালা কেউ যদি না মানে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কতটুকু কাজ করতে পারবে? তারা জরিমানা করলো, কারণ দর্শানোর নোটিস দিল, দুয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল করলো কিন্তু সেটা তো সমাধান না।
“সমাধানটা হচ্ছে সবাই যাতে কমিশনকে সহায়তা করে, এই আইনগুলো মেনে চলে, নিয়মগুলো মেনে চলে, তাহলে মাঠটা সমান থাকবে। এবং যারা এই মাঠ সমানের দায়িত্বে আছে, এই যে, যে ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছে, তাদেরও ওই আইন অনুযায়ী এইভাবেই রোল প্লে করতে হবে। যাতে সবাই সহাবস্থানে থাকে এবং খেলার মাঠটা আমরা যেটাকে ফেয়ার প্লে বলি, সেরকম একটা পরিবেশ থাকে।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সঠিক অবস্থানে আছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেটা আসলে হওয়া উচিত, যদি ছোট্ট একটা অভিযোগও কেউ করে, এটা খতিয়ে দেখতে হয়। খতিয়ে দেখে এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হয় যে, অমুক দল একটা অভিযোগ দায়ের করেছিল, আমরা এটা খতিয়ে দেখে এই পেয়েছি, সবাইকে জানানো। নির্বাচনে যারা অংশীজন, জনগণ থেকে শুরু করে প্রত্যেককে জানানো।“
নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগে জনগণ ভোট নিয়ে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রতীক পেয়েই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-প্রার্থীদের
আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, "আচরণবিধি মেনেই এখানে এসেছি। দুঃখজনক হলো একটি বিশেষ দল আচরণবিধি মানেনি। আমরা পাঁচজন এসেছি, তারা (জামায়াতের প্রতিনিধি) ১০ জনের বেশি লোক এখানে নিয়ে এসেছে।"
ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন "নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি দল নারীদের বাসায় বাসায় পাঠিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা গেছে নারীকর্মীরা এনআইডি আর বিকাশ নম্বর চাইছিল। এগুলো ব্যক্তিগত তথ্য। বাইরের কাউকে হস্তান্তরযোগ্য নয়। নারীকর্মীদের এসব জিজ্ঞেস করলে তারা ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে তাদের নেতারা ২০, ২৫ জন নিয়ে এসে প্রশ্নকর্তাকে নাজেহাল করে।"
তিনি দাবি করেন, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়ায় একই ঘটনা ঘটে।
"স্থানীয় মানুষরা জিজ্ঞেস করলে জামায়াতের সংঘবদ্ধ কর্মীরা বিএনপির দুইজন কর্মীকে মারধর করে। সেখানে পরে হৈ হল্লা সৃষ্টি হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ, সেনাবাহিনীতে ফোন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ করি। ইসিকে অনুরোধ সবাই যেন নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।"
জামায়াতের আমিরের পক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দ নেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ একটি প্রতিনিধি দল।
রিটার্নিং অফিসারের সামনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের পক্ষে কথা বলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।
তিনি বলেন, “কোনো প্রার্থীর লোক আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের। সেখানে আরেকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের চড়াও হওয়া, মারধর করা-ইতোমধ্যে প্রার্থীর ১৬ জন লোক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অথচ পাল্টা অভিযোগ পেশ করা হল।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্তদের ‘সর্বোচ্চ’ সতর্ক অবস্থায় রাখার চেষ্টা করার আহ্বান জানান এই জামায়াত নেতা।
“জাতি ইনক্লুসিভ, ক্রেডিবল একটা ভালো নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “যদিও বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা করছে। নেতাকর্মীদের উপর হামলা, নাজেহাল করছে; গতকাল ঢাকা-১৫ আসনে এমন ঘটনা ঘটেছে। রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি, আশা করবো ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে।”
এক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি আইন ও বিধানের সরাসরি লঙ্ঘনের পরও নির্বাচন কমিশন নিশ্চুপ কেন তা জানতে চেয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার পর তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শোকজ দেওয়া হয়। কিন্তু তারেক রহমান গতকাল (মঙ্গলবার) যখন সরাসরি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন তখন নির্বাচন কমিশন এখানে নিশ্চুপ থেকেছেন।"
প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রশাসন একদিকে ঢলে যাচ্ছে। এখানে বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে অর্থাৎ তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি আর অন্যান্য প্রার্থীদের বেলায় এক নীতি।"
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কিছু পরামর্শ ও কিছু অভিযোগ দিয়েছি। সব দল যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে। ভোটকেন্দ্রগুলো যেন সুরক্ষিত থাকে। কেন্দ্র দখল বা কারচুপি যেন না হয়, বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসি টিভি রাখার দাবি জানিয়েছি।”
গত তিনটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় এবং এবার উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ চায় দলটি। নেত্রকোণা-১ ও ফরিদপুর-২ নিয়ে অভিযোগ জানায় দলটি।

তিনি বলেন, “কমলাকান্দা উপজেলার ইউএনও নিজের মত কাজ করছিলেন। একটি দলের প্রার্থী তাকে প্রত্যাহার করতে বলেন, সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই কর্মকর্তাকে পুনরায় বহাল করতে বলেছি। দুর্গাপুরের ইউএনও একটি পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থীর লোকজন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।”
কমিশন সব ধরনের অভিযোগ নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে দেওয়ার জন্য বলেছে এবং বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান খেলাফত মজলিস নেতা।
আচরণবিধি নিয়ে অসন্তোষ, ‘হাত-পা বেঁধে সাগরে’
বিদ্যমান আচরণবিধি প্রতিপালন করতে গিয়ে নিয়ম মেনে প্রচারণা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে অনুযোগ করছেন প্রার্থীরা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক বলেন, “আচরণবিধি পড়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে-হাত পা বেঁধে সাতরাতে দেওয়ার মতো অবস্থা। সামনে মাত্র ১৮ দিনের প্রচারে কিভাবে ৪-৫ লাখ লোকের কাছে পৌঁছাতে পারবে এবং তার প্রক্রিয়া কিন্তু ভালো করে রাখেননি।”
আচরণবিধি পরিবর্তন করা যাবে কিনা জানতে চেয়ে তিনি বলেন, লাখ লোকের সমাবেশে মাত্র তিনটি মাইক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে-এসব বিবেচনায় নিতে হবে।
“পোস্টারবিহীন এবার নির্বাচন হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডের ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই তেমন ধারণা নেই। সভা-সমাবেশ করতে অনুমতি নিতে হবে, সোশাল মিডিয়ায় প্রচারণা নিয়েও বিপাকে।”
মত বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব প্রসঙ্গ টেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, জাতীয় পার্টির সামশুল হক, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ বলেছেন, আচরণবিধি পালনে তাদের সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু গোলযোগের শঙ্কা রয়েছে, উদ্বেগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সহায়তা চান তারা।

সতর্ক প্রশাসন, অনিয়মে ছাড় নয়
ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের প্রার্থীদের উদ্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, কোনো প্রার্থীর কর্মীরা যদি যদি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে সেটার দায় কিন্তু প্রার্থীদের উপর বর্তাবে। তাই প্রার্থীদেরকে তাদের কর্মীদের আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে অবগত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ সুন্দর রাখা কেবল নিরাপত্তা বাহিনী না, প্রার্থীদেরও এর জন্য কাজ করতে হবে।
মোহাম্মদপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে কাজ করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় মিলবে না। পুলিশ কারও পক্ষ নেবে না।
ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর মেজর নাফিসা বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করবো। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো আপনারা আচরণ বিধিমালা মেনে চলবেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করবেন না, কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।”
ইসি দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ ভাবছে। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের আবহ তৈরি করছে বলে কিছু ক্ষেত্রেও ভাবা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সব নেওয়ার পাশাপাশি আইন-বিধির ব্যত্যয় হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
“সবখানে ভোটের অনুকূল পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব যেন না হয় সে বিষয়ে নজর রাখবে মাঠপ্রশাসন-পুলিশ।”
কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল থেকে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার।
সরকারের পদক্ষেপ
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করব, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এই বিশাল কাজটি শেষ করে তাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।”
একটি আদর্শ নির্বাচন হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। ইসির নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখছেন এবং আশা প্রকাশ করেন, “তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।”
শীর্ষ নেতাদের প্রচার শুরু কোথায়
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন সিলেট থেকে। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীতে প্রথম সমাবেশের পর সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় পথে পথে জনসভা করবেন তিনি।
ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি প্রচারণা। পরের দুদিন নির্বাচনি সফরে উত্তরাঞ্চল যাবেন তিনি।
তিন কিংবদন্তি নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের মাজার এবং ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবে এনসিপি। এতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা।
রাজনৈতিক নেতাদের কে কোথায় প্রচার শুরু করছেন
নির্বাচনে যেন কোনো 'গলদ' না থাকে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রতীক বরাদ্দ: ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ