১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে মাস্কের স্টারলিংককে লাইসেন্স না দিতে আরএসএস শাখা সংগঠনের আহ্বান

ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি এবং পরোক্ষভাবে সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অর্থনৈতিক শাখা স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ।

ভারতে মাস্কের স্টারলিংককে লাইসেন্স না দিতে আরএসএস শাখা সংগঠনের আহ্বান

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Oct 2026, 12:41 AM

Updated : 14 Oct 2026, 12:57 AM

ভারতে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্টারলিংক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালুর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) অর্থনৈতিক শাখা স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (এসজেএম)।

একইসঙ্গে সংগঠনটি ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি এবং পরোক্ষভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মাস্ক এর আগে এক্স-এ আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একচেটিয়া বাজার বা একাধিপত্য রক্ষার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু করতে বিলম্বের কারণেও তিনি আম্বানির সমালোচনা করেছিলেন।

আম্বানির কোম্পানি রিলায়েন্স এখন পর্যন্ত মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, ভারতে টেলিকম এবং স্যাটেলাইট লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম সবার জন্য সমান ও নিরপেক্ষ। সেখানে বেছে বেছে কাউকে সুবিধা দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।

স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বনী মহাজন বলেছেন, স্টারলিংক কোম্পানি যদি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনও হুমকির কারণ হয় এবং তারা যদি সেই সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তবে ভারত চাইলে তাদের দেশে ব্যবসা করার অনুমতি নাও দিতে পারে- সেই অধিকার ভারতের আছে বলে মনে করে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (এসজেএম)।

তিনি বলেন, ভারত যদি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বন্ধ করে দেয়, তবে কোনও ভুল হবে না। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাণিজ্যিক বন্ধু দেশগুলোর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে যে, ভারত নিজের দেশের নিরাপত্তার জন্য যে কোনও বিদেশি সেবা বন্ধ করার পূর্ণ অধিকার রাখে।

অশ্বনী মহাজন মাস্কের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, স্টারলিঙ্ক ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু এবং পরিচালনার জন্য লাইসেন্সের আবেদন করেছে। কিন্তু এখনও সেটি অনুমোদন পায়নি, যদিও তাদের আবেদন খারিজও করা হয়নি।

তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইলন মাস্কের কোম্পানির কাছে কিছু ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জবাব না দিয়ে, মাস্ক উল্টো ভারতীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ভারত সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে নানা অভিযোগ এনেছেন।ইলন মাস্কের এই আচরণ দুর্ভাগ্যজনক।”

মহাজন অভিযোগ করেছেন যে, স্টারলিংক সম্ভবত সরকারের ওপর জনসাধারণের চাপ তৈরি করে লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছে, অথবা নিয়ন্ত্রণমূলক শর্তাবলীর কারণে হতাশ হয়ে ইলন মাস্ক এ ধরনের মন্তব্য করছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,"মনে হচ্ছে স্টারলিংক হয়ত নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে প্রস্তুত নয়। তাই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ইলন মাস্ক হয় জনগণের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, অথবা লাইসেন্স না পেয়ে হতাশ হয়ে এসব কথা বলছেন।”

বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, সন্ত্রাসী হামলা, দাঙ্গা ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায়ই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে মহাজন বলেন, "বর্তমানে ভারতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

“এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই গুজব ও দেশবিরোধী প্রচার ছড়ায়। বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, বিক্ষোভসহ এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনেক সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।"

তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইটের মধ্যে লেজার সংযোগের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ থাকায় স্টারলিংক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিক দেশীয় গেটওয়ে এড়িয়ে বিদেশি অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। এতে বৈধ নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কাজ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

"সরকার চায়, ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিক দেশের ভেতরে অবস্থিত গেটওয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হোক," বলেন মহাজন।