০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্নীতির মামলা: স্পেনে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল

আমচ্যাম মিয়ানমারের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্পেনের বার্সেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্নীতির মামলা: স্পেনে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল

ছবি: মুনিনুল ইসলামের লিংকডইন প্রোফাইল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 10:17 PM

Updated : 03 Nov 2026, 10:17 PM

যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন টিকবে না বর্ণনা করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচ্যাম) সাবেক বোর্ড সদস্য বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির মামলা তুলে নিয়েছে অ্যামচ্যাম মিয়ানমার।

মুমিনুলের বিরুদ্ধে এর ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস বাতিল হওয়ায় স্পেনের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘মিসফিট টেকনোলজিস’-এর সিইও মুনিমুল ইসলাম।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এপির বরাতে ইউএসনিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়, আমচ্যাম মিয়ানমারের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির কর্মকর্তাদের অনুরোধে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্পেনের বার্সেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছুটিতে স্পেনে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি।

মামলা তুলে নিতে মিয়ানমারের এই সিদ্ধান্তের পর স্প্যানিশ বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ গত ২৬ অক্টোবরের একটি নথিতে বলেছে, তারা মুনিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ও খারিজ করে দিয়েছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।

এদিকে মুক্তি পাওয়ার পর যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুনিমুল ইসলাম গত সোমবার বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ইন্টারপোলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মারাত্মক দুর্বলতাকে দেখিয়ে দিয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে ইউরোপীয় গণতন্ত্রে কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েছে।”

এ বিষয়ে প্যারিসভিত্তিক সংস্থা ইন্টারপোল বলছে, মামলাটির বিভিন্ন তথ্য তারা কেবল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকেই দেবে, অন্য আর কাউকে নয়। অন্যদিকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সো লিন অং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় তিনি কোন কথা বলতে চান না। পরবর্তীতে ফোন কেটে দেন তিনি।

একই বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউএসনিউজ বলছে, আমচ্যাম মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ একটি বিরোধ থেকেই মুমিনুলকে গ্রেপ্তারের মত ঘটনার সূত্রপাত। সংগঠনটির বর্তমান বোর্ড সদস্যরা মুনিমুল, সাবেক বোর্ড সভাপতি ও মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলো এবং সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইয়ে খাউং এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওয়াশিংটনে লবিং কার্যক্রমের জন্য একটি মার্কিন জনসংযোগ সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের জন্ম।

তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে ফৌজদারি মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে কাস্তিলো ও ইয়ে খাউংকে গ্রেপ্তার করলে এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুনিমুলের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’ জারির আবেদন করে। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন এতে হস্তক্ষেপ করে এবং গত সেপ্টেম্বরে কাস্তিলোর মুক্তি ও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাবাসন করতে মিয়ানমারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়।

অন্যদিকে ইয়ে খাউং দোষ স্বীকার করার পর তাকে মিয়ানমার থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দেশে ফিরে ইয়ে খাউং দাবি করে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চাপের মুখেই তিনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

খবরে বলা হয়, আমচ্যামের মূল অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন অ্যাডাম কাস্তিলো। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘ইউএস-বার্মা ইকোনমিক ফোরাম’ নামে একটি লবিং সংস্থা গঠন করেন। ২০২৪ সালে ‘মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষর করেন তিনি।

আমচ্যাম মিয়ানমারের দাবি, কাস্তিলো অবৈধভাবে ৩ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন এবং বর্তমান বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই মার্কারিকে লবিং কার্যক্রমে যুক্ত করতে সংস্থার নাম ব্যবহার করেন।

আমচ্যাম মিয়ানমারের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মিয়াত ফিউ থো সোমবার মুনিমুল ইসলামের মামলার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। তবে তিনি আগে বলেছিলেন যে, তাদের আশঙ্কা ছিল এই আর্থিক লেনদেন সংস্থা ও বর্তমান বোর্ডের জন্য সম্ভাব্য আইনি আর্থিক ও ফৌজদারি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।