মিয়ানমারের রাজধানীর সামরিক ঘাঁটিতে ‘ড্রোন হামলা’

জান্তাবিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) সমর্থিত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 April 2024, 09:24 AM
Updated : 4 April 2024, 09:24 AM

সেনাশাসিত মিয়ানমারের রাজধানীর এক সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। খবরটি সত্যি হলে এটি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

দেশটির ছায়া সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানী নেপিদোর ওই সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।  

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তাবিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) সমর্থিত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, এনইউজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা হামলাটি চালিয়েছে।

পিডিএফ জানিয়েছে, সামরিক ঘাঁটিটির দুটি স্থানে হামলাগুলো চালানো হয়েছে, এর মধ্যে বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ হামলার বিষয়ে পিডিএফ বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। রয়টার্সও স্বতন্ত্রভাবে তাদের দাবির সত্যাসত্য নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলাটি হয়েছে, এটি নিশ্চিত হতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। 

হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না অথবা যে ড্রোনগুলো বা অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমেও কথিত হামলার বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি।

অনামা সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি বার্মিজ ও খিত থিট নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর থেকে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিটির রানওয়ে বন্ধ আছে, সেখানে থেকে অবিস্ফোরিত বোমা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নগরীর বেসামরিক বিমানবন্দরের সঙ্গে এই রানওয়ে সংযুক্ত।

গণমাধ্যম মিজ্জিমা জানিয়েছে, সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে আর বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৩টি।

তবে এসব তথ্য রয়টাসর্ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।

মিয়ানমার ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৬২ সাল থেকে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপর থেকে বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনী সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জান্তা সরকার দেশজুড়ে বিভিন্ন বাহিনীর বিদ্রোহ মোকাবেলা করছে, পাশাপাশি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির অর্থনীতিও মুখ থুবড়ে পড়েছে।