হংকং এখন ‘আতঙ্কের নগরী’: গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকর্মী

অ্যাগনেস চাও আরো দুই গণতন্ত্রপন্থি নেতা নাথান ল এবং জশুয়া ওয়াং এর সঙ্গে মিলে গণতন্ত্রপন্থি গ্রুপ ‘ডেমোসিস্টো’ পরিচালনা করতেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2023, 02:14 PM
Updated : 7 Dec 2023, 02:14 PM

হংকংকে ‘আতঙ্কে ভরা নগরী’ বলে বর্ণনা করেছেন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকর্মী অ্যাগনেস চাও। যিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কানাডা চলে গেছেন।

বিবিসি জানায়, চাও এর বিরুদ্ধে ‘বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের’ অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে তাকে লেখাপড়া করার জন্য কানাডা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চাও এখন টরেন্টোতে পালিয়ে আছেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, তার আর হংকং ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

এদিকে হংকং কর্তৃপক্ষ বলেছেন, চাও যদি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ না করেন তবে ‘সারাজীবন পুলিশ তাকে খুঁজবে’ এবং তাকে খুঁজে বের করার কোনো ‘প্রচেষ্টা বাদ দেওয়া হবে না’।

গত কয়েক বছর ধরে চীনা কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে থাকার কারণে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলেও জানান চাও। বলেন, তার এখন ঘন ঘন ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হচ্ছে। তার জন্য চাকরি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যাংকে একটি একাউন্ট খোলার মত সাধারণ কাজও তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “এতটা অবদমনের নিচে আমি কীভাবে আরো ১০, ২০ বা ৩০ বছর কাটাবো?”

চাও আরো দুই গণতন্ত্রপন্থি নেতা নাথান ল এবং জশুয়া ওয়াং এর সঙ্গে মিলে গণতন্ত্রপন্থি গ্রুপ ‘ডেমোসিস্টো’ পরিচালনা করতেন। ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে হংকংয়ে চীন সমর্থিত প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের দাবিতে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার অগ্রভাগে থাকা নেতাদের একজন ছিলেন তিনি।

২০১৯ সালে হংকং পুলিশ সদরদপ্তরের বাইরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে পরের বছর কারাদণ্ডের সাজা হয় চাও এর। ২০২১ সালে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য তাকে কানাডা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে যান। তবে শর্ত ছিল, কলেজ ছুটির সময় পুলিশকে রিপোর্ট করতে তাকে হংকং ফিরতে হবে।

গত রোববার সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে চাও জানান, তিনি জামিনের মুক্তির শর্ত মানছেন না এবং বিচারের জন্য হংকং ফিরে যাবেন না।

চাও বিবিসিকে বলেন, তিনি নভেম্বরে জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ, তার একমাস আগেই তিনি হংকং ফিরে যাওয়ার বিমান টিকেট কিনে রেখেছেন। কিন্তু এখন তার ভয় হচ্ছে, সেখানে গেলে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হবে এবং আর কানাডা ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

বলেন, “আমি একেবারে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নিতে পারিনি। আমি চাই না আমাকে আবার চীনে পাঠানো হোক।”

তিনি ফিরে না গেলে তার পরিবার দমন-পীড়নের শিকার হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চাও হতাশা নিয়ে বলেন, তিনি একাই জামিনের শর্ত ভঙের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং ‘নিরাপত্তার’ কারণে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।

Also Read: তিয়েনআনমেন স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন, হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি কর্মীর কারাদণ্ড