১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।

রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আটক হন ইমরান খান।ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 02:16 PM

Updated : 15 Oct 2026, 02:16 PM

ভারতের মুম্বাইয়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া নোটিসে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক না হওয়ার পরও রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিবাসন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ইমরান খান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ভারতে তিনি পূর্ণ নাগরিকত্বের বদলে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ডধারী হিসেবে বসবাস করছেন।

পুলিশ তাকে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর ৭ নম্বর ধারার অধীনে ওই নোটিস দিয়েছে।

ওই ধারা অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, প্রস্থান, উপস্থিতি বা চলাচলের ওপর যে কোনো বিধিনিষেধ বা নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের।

এর আগে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ওসিআই ও ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে ‘অবৈধ রাজনৈতিক আন্দোলনে’ যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন ইমরান।

সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং দূর সম্পর্কের বোন জেইন মেরি খান। সমাবেশ চলাকালে তাদের আটক করে পুলিশ।

ওই বিক্ষোভ থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’ এবং সিপিআইএমের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

আটকের পর প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে একটি সেলফি পোস্ট করে রসিকতার সুরে ইমরান লিখেছিলেন, “মনে হচ্ছে লং ড্রাইভে যাচ্ছি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশের উদ্দেশে ‘জয় হিন্দ’ বলতে দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে আমি জানি না কেন আমাকে এখানে আনা হয়েছে। রাস্তা থেকে ধরে আমাদের স্রেফ এই ভ্যানে বসিয়ে দেওয়া হল।”

পুলিশ তাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরিয়ে পরে ছেড়ে দেয়।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দাবি নিয়ে তিনি সেখানে যাননি।

“আমি এই শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে এসেছি। কেন মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে আর কেনই বা কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, নাগরিক হিসেবে সেটাই দেখতে এসেছিলাম।”