গত অক্টোবর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব আইসল্যান্ডে ২০ হাজারের বেশি ভূ-কম্পন হয়েছে। এ কারণে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা করছে দেশটি।
Published : 12 Nov 2023, 11:27 AM
আইসল্যান্ডে দফায় দফায় ভূমিকম্পের পর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
পূর্ব সতর্কতা হিসেবে আগেভাগেই দ্রুত দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্রিন্তাভিখের হাজারো বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আইসল্যান্ডের আবহাওয়া অফিস (আইএমও) বলছে, রেকজানেস উপদ্বীপ বা তার আশপাশে অগ্ন্যুৎপাতের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ওই এলাকায় অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বেড়েছে।
আইএমও এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে ফাক্রাতালস্ইয়া আগ্নেয়গিরি এলাকার চারপাশে বহুবার কম্পন অনুভূত হয়। কম্পনগুলোর কেন্দ্রস্থল দেশটির রেকজানেস উপদ্বীপে। ২০২১ সালে একটি অগ্ন্যুৎপাতের আগে ৮০০ বছর ধরে ওই এলাকায় আগ্নেয়গিরি সুপ্ত ছিল।
আইএমও বলছে, ক্রিন্তাভিখের উত্তর-পূর্ব এলাকা ও অভ্যন্তরীণ এলাকার ১০ কিলোমিটার জুড়ে আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার যে স্রোত রয়েছে, সেটি ৮০০ মিটার গভীর বলে অনুমান করা হলেও শুক্রবার সেটির গভীরতা পাওয়া যায় দেড় হাজার মিটার।
বারবার কম্পনের কারণে বৃহস্পতিবার ওই এলাকার নিকটবর্তী ব্লু লেগুন এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত অক্টোবর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব আইসল্যান্ডে ২০ হাজারেরও বেশি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
আইসল্যান্ডের সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সি জানিয়েছে, গলিত লাভার স্রোত ক্রিন্তাভিখে পৌঁছাতে পারে, এমন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারেনি আইএমও। যে কারণে তারা বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইএমও বলছে, “লোকজনকে অবশ্যই শহর ছেড়ে যেতে হবে। তবে এটি কোনো ‘জরুরি অপসারণ’ কার্যক্রম নয়। শান্ত থাকুন। কারণ আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিপদের সম্ভাবনা নেই।”
ক্রিন্তাভিখে প্রায় ৪ হাজার মানুষের বসবাস। সেখানে সব রাস্তা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে সহজে যানবাহন প্রবেশ ও বের হতে পারে।
আইসল্যান্ডে প্রায় ৩০টির মত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ভৌগলিকভাবেই বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অঞ্চল ইউরোপের দেশটি।