ভারতে নির্মাণাধীন টানেল ধসে আটকা পড়া ৪০ শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা
ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকরা বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভারতের উত্তরাখন্ডে নির্মাণাধীন একটি টানেল ধসে আটকা পড়া ৪০ নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করতে দেশটির অনেকগুলো সংস্থা একযোগে অভিযান চালাচ্ছে।
রোববার ভোর সকালে রাজ্যটির উত্তরকাশী জেলায় ব্রহ্মখাল-যমুনাত্রী জাতীয় মহাসড়কের অংশ নির্মাণাধীন টানেলটির একটি অংশ ধসে পড়ে। টানেলের প্রবেশ পথ থেকে প্রায় ২০০ মিটার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে থাকা শ্রমিকরা আটকা পড়েন।
টানেলটি উত্তরাখন্ডের উত্তর কাশির সিল্কিয়ারাকে দন্দলগাঁও এর সঙ্গে সংযুক্ত করবে। চার ধাম প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন এই টানেল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান উত্তর কাশীর থেকে যমুনাত্রী ধামের মধ্যেবর্তী সড়ক পথের দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে।
সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, আটকা পড়া ৪০ জন শ্রমিকের সবাই নিরাপদ আছেন এবং পাইপের মাধ্যমে তাদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
উত্তরকাশীর সার্কেল কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বলেছেন, “প্রত্যেকে নিরাপদ আছেন। আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হচ্ছে।”
তাদের খাবার ও পানি পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, টানেলটি থেকে ধসে পড়া স্লাবের ২০ মিটারের মতো অংশ অপসারণ করা হয়েছে আর শ্রমিকদের বের করে আনার একটি পথ প্রস্তুত করা হচ্ছে, তারপর টানেলটি খুলতে আরও ৩৫ মিটারের মতো অংশের আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।
“এক্সকাভেটর ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে,” বলেছেন প্রশান্ত কুমার।
সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিওতে বিশাল ক্রংক্রিটের স্তূপে প্রশস্ত টানেলটি বন্ধ হয়ে থাকতে আর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ধাতুর বারগুলো ছাদ থেকে বের হয়ে আছে, এমনটি দেখা গেছে।
ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকরা বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
