০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

হেগসেথ ও রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউজ

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ সামলানোর ব্যর্থতায় হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে বলে খবর হয়েছে।

হেগসেথ ও রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউজ

হোয়াইট হাউজে মার্কিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 01:14 PM

Updated : 06 Nov 2026, 01:14 PM

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এই রদবদলের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের পদ থেকে সরে যেতে পারেন, এমন গুজব চাউর হওয়ার মধ্যে হোয়াইট হাউজ তা নাকচ করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ সামলানোর ব্যর্থতায় হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে। এমনকি আগামী সপ্তাহেই হেগসেথের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অভিশংসন প্রস্তাব তোলার হুমকি দিয়েছেন কংগ্রেস থেকে বিদায় নিতে যাওয়া এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে এই যুদ্ধকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এক ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এই চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

হেগসেথ বলেন, “তারা আমাকে আক্রমণ করছে। আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখছি বলেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছে। এতে কোনো কাজ হবে না। আমরা পিছু হটব না।”

এদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে যে খবর রটেছে রুবিও তা অস্বীকার করেছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত তার অধীনে কাজ করে যাওয়াই তার ‘সবসময়ের পরিকল্পনা ছিল’।

তিনি বলেন, “আমি আমার কাজ ভালোবাসি। তাছাড়া লোকে যখন বলে আমি পদ ছাড়ছি, তখন আমার হাসি পায়। আমি ভাবি, ‘কোন পদটা ছাড়ব?’”

হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উভয়েই রুবিওর বিদায়ের কথা উড়িয়ে দিয়ে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, রুবিওর অবস্থান নিরাপদ মনে হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বেশ অনিশ্চিত।

ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স উভয়েই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। ইরান যুদ্ধের কারণেই কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন তারা।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হেগসেথের বিষয়ে তিনি অনেকের ফোন পেয়েছেন। তবে তাকে স্বপদে বহাল রাখার পূর্ণ ইচ্ছা তার রয়েছে।

পরে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।”

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং নয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধে হেগসেথের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্প সম্ভবত সামরিক বাহিনীর শীর্ষ দুই কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তারা হলেন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। আট মাস আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে উভয়েই যুদ্ধের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।

এদিকে ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি, হেগসেথকে অভিশংসনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অভিশংসনের প্রস্তাব তুলবেন।

এক্সে এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পকে পরামর্শ দেন, জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস বসার আগেই হেগসেথকে সরানো উচিত।

ম্যাসি লেখেন, “সেনেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকতেই প্রেসিডেন্টের উচিত নতুন কাউকে নিয়োগ দিয়ে তা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া।”

পাশাপাশি হেগসেথ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি শূন্য সেনেট আসনে নির্বাচন করার কথা ভাবছেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

নিজের ভিডিও বার্তায় হেগসেথ এই উদ্যোগকে ‘অভিশংসনের ভুয়া নাটক’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এক ক্ষুব্ধ ও পরাজিত আইনপ্রণেতা এবং তার ডেমোক্র্যাট সহযোগীরা মিলে এটি করছে।

হেগসেথ দাবি করেন, তার নেতৃত্বে পেন্টাগন ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, সেনা নিয়োগ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠন এবং তথাকথিত ‘বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি’ (ডিইআই) সমূলে উৎপাটন করা।

ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তাদের নীতিগুলো অকার্যকর। তাই ক্ষমতার মোহে রাজনৈতিক নাটক সাজিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে চায়। এটি আসলে ব্যক্তি ধ্বংসের নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়।”