রাহুল গান্ধীর আবেদনে ২২০ রুপির ফি ঘাটতিসহ ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এসব ত্রুটি সংশোধন করতে হবে, তা না হলে মামলাটি শুনানির তালিকায় উঠবে না।
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতাদের করা যৌথ আবেদনে ২২০ রুপির কোর্ট ফি ঘাটতিসহ ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগ জানিয়েছে, আবেদনে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি বাবদ ২২০ রুপির ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ৯ জন আবেদনকারীর ‘ওকালতনামা’ যুক্ত করা হয়নি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের যে ফটোকপি জমা দেওয়া হয়েছে, তা ‘অস্পষ্ট’ জানিয়ে আপত্তি তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
অন্যান্য ত্রুটির মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত ছোট ফন্টের ব্যবহার, দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়া, অস্পষ্ট ও পড়ার অযোগ্য লেখা, বাদ পড়া পৃষ্ঠা, ইংরেজি অনুবাদ ছাড়া জমা দেওয়া আঞ্চলিক ভাষার নথি এবং পৃষ্ঠা নম্বরের অসঙ্গতি।
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এসব ত্রুটি সংশোধন করতে হবে, তা না হলে মামলাটি শুনানির তালিকায় উঠবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে ছাড়াও বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা এতে স্বাক্ষর করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সৌগত রায়, আরজেডির তেজস্বী যাদব এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে।
এছাড়া আবেদনে সই করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, সিপিএমের এম এ বেবি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি এবং মুসলিম লীগ নেতা ইটি মোহাম্মদ বশির।
আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই), প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে বিবাদী করা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনে ১০ দফা প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া, এসব সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার অডিট বা নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা।
এদিকে সোমবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও কথিত ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মী নয়া দিল্লির রাজপথে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেন।
কংগ্রেসের আইনজীবী দল সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনটি জমা দেওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তারা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটের নিয়মে ফিরে যাওয়া, এসআইআর স্থগিত করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি জানাতে চেয়েছিলেন।
তবে বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান প্রধান বিচারপতি।
অবশ্য পদযাত্রার আগে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সবার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা রয়েছে।
