১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিতে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে হাজির রাহুল গান্ধী, ১০ দফা আর্জি

বিরোধী শিবিরের নেতাদের দায়ের করা পিটিশনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ১০ টি বিষয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে প্রতিকার দাবি করা হয়েছে৷

দিল্লিতে মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে হাজির রাহুল গান্ধী, ১০ দফা আর্জি

বিরোধীদলীয় নেতাদের বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 12:18 AM

Updated : 13 Oct 2026, 12:27 AM

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশের বাধা এড়িয়ে সোমবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করে সেখানে পৌঁছান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, ভোট চুরি ঠেকানো এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এই যাত্রার ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক।

বিরোধী নেতাদের আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করেই নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচিতে অনড় থেকেছে ইন্ডিয়া জোট।

পুলিশ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তির পর অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন তারা৷

বিরোধী শিবিরের নেতাদের দায়ের করা পিটিশনে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ১০ টি বিষয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে প্রতিকারের আর্জি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পত্রিকা নিউজ১৮৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজপথে প্রবল জনস্রোতের কারণে সোমবার সময় মতো (বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে) সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছতে পারেননি রাহুল গান্ধী। ফলে রাহুল পৌঁছানোর ঘন্টা দুয়েক আগেই তার হয়ে সর্বোচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী এস প্রসন্ন।

সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতাদের দায়ের করা আবেদনে জানানো আর্জিগুলো হল:

১. নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি৷ এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় ফাইল, চুক্তি, বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং যে যে বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল, তাও আদালতকে জানানোর জন্য নির্দেশ দিতে আর্জি জানানো হয়েছে৷

২. এসআইআর প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার আইন (২০২৩) এর ১৮ নম্বর ধারার ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ মেনে এবং সুপ্রিম কোর্টের অতীতের নির্দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে৷

৩.ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনও কর্মকর্তা সংবিধান বহির্ভূত কাজ করে থাকলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন পিটিশন দাখিল করা বিরোধী শিবিরের নেতারা৷

৪. এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যা যা আপত্তি উঠেছিল, সেগুলো যাতে নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে সেই আর্জি জানানো হয়েছে।

৫. রেজিগনেশন অব ইলেকশন রুলস ১৯৬০ অনুযায়ী যেমন হওয়া উচিত, তার বাইরে যাতে ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন বা সংশোধন না করা হয়, সেই আর্জি জানানো হয়েছে বিরোধীদের আবেদনে৷

৬. সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি এবং সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা, নির্বাচনে ইভিএম-এর ব্যবহার ঘিরে যাবতীয় প্রোটোকল মানা হচ্ছে কি না তা যাচাই করে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে৷

৭. এসআইআর-এ বুথ ধরে ধরে যতজন ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে সেই তালিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি কী কারণে নাম বাদ গেল তাও উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে এবং ভোটারদের লিঙ্গ ও বয়সও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে৷

৮. আবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ আইনি নোটিস এবং শুনানির সুযোগ ছাড়া কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না৷ পাঞ্জাব-সহ অন্যান্য ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে সব যোগ্য ভোটার যাতে আইনি ভাবে নাম তোলার শেষ দিনের আগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন জানাতে পারেন সেই আর্জিও জানানো হয়েছে৷

৯. বিরোধী নেতারা আরও আবেদন জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত না এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে বা অভিযোগের সুরাহা হচ্ছে ততদিন যেন সব রাজ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়৷

১০. নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে সুপ্রিম কোর্ট যদি মনে করে তাহলে অতিরিক্ত কোনও নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে বিরোধী শিবিরের পিটিশন দাখিল করা নেতাদের পক্ষ থেকে৷

রোববারই ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’-এর কথা ঘোষণা করেছিল বিরোধী শিবির ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ঠিক হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শীর্ষনেতারা।

তবে রোববার রাতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সময় দিতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি জানান, তারা (ইন্ডি জোট) যে বিষয় উত্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন, সেগুলো ইতিমধ্যে বিচারাধীন এবং সুপ্রিম কোর্টে এর শুনানি চলছে।

আদালত রাজনীতি করার জায়গা নয় বলেও বার্তা দেন তিনি। এরপরও সোমবার পদযাত্রা করে শীর্ষ আদালত চত্বরে যান রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য নেতারা। তাদের প্রধান প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও।