০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘জ্ঞানেশ জেলে যাবেন, মোদী-শাহ পালাতে পারবেন না’, দিল্লির সমাবেশে রাহুল

রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই কড়া বার্তা দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

‘জ্ঞানেশ জেলে যাবেন, মোদী-শাহ পালাতে পারবেন না’, দিল্লির সমাবেশে রাহুল

রাহুল গান্ধী। ছবি: এক্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 09:24 PM

Updated : 01 Nov 2026, 09:24 PM

ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এবং

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কংগ্রেস পার্টির নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রমলীলা ময়দানের জনসভা থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কড়া বার্তা দেন রাহুল।

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পর সংগ্রামের লক্ষ্য মোদী ও অমিত শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করা- সেই বার্তা দিয়ে রাহুল বলেছেন, তারা যেন পালিয়ে পার পাওয়ার কথা না ভাবেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের মহাসমাবেশ।

‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।

রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব এবং ফারুক আবদুল্লার মতো নেতারা মিছিল করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তাদের ঘিরে রামলীলা ময়দানে জমায়েত হয় বহু মানুষ।

সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গোটা বিষয়টিকে ‘ভোট চুরি’ বলে আক্রমণ করেছে ইন্ডিয়া জোট। যদিও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খারিজ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে।

কিন্তু বিরোধীরা বলছে, এর মাধ্যমে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে ভোটের সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, এনডিএ এবং বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এরপর ১৫ শতাংশ ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার বক্তব্য, এর অর্থ ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ ছিল। এই দাবি তাদের নয়, নির্বাচন কমিশনের তথ্য থেকেই তা প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেন রাহুল।

সভামঞ্চ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি যা বলেন, তা সত্যি হয়। এরপরই তার হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরতে হবে এবং তাকে জেলেও যেতে হবে।

রাহুলের অভিযোগ, “এটি কোনও সাধারণ চুরির ঘটনা নয়।” তার কথায়, “দোকান থেকে সামান্য কিছু চুরি করার সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা চলে না। এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি এই ঘটনাকে আইনি ভাষায় ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার কেস’ এবং দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর বিষয় বলে উল্লেখ করেন। রাহুল আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তার দাবি, ভারতের বিভিন্ন সংস্থা এখন তাদের দখলে। এর ফলে গরিবরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং দেশের সম্পত্তির বেশিরভাগ মাত্র তিনটি জায়গায় কুক্ষিগত হয়ে যাচ্ছে।

এরপর নিজের পছন্দের ভারতের ছবি তুলে ধরে রাহুল বলেন, এমন এক ভারত গড়তে হবে যেখানে সবার জায়গা থাকবে। কৃষক কঠোর পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। পড়ুয়ারা ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করার পর উপযুক্ত শিক্ষা এবং চাকরির সুযোগ পাবেন। কোনও একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে দেশকে থাকতে দেওয়া যাবে না।

রাহুল গান্ধীর কথায়, দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হল জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো। এরপরই অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার কথায়, জ্ঞানেশ কুমারের পর অমিত শাহের মুখোমুখি হবে বিরোধীরা।

তবে রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ব্যক্তিগত ঘৃণার কোনও জায়গা নেই বলেও দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, তারা নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমার কাউকেই ঘৃণা করেন না।

কিন্তু সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)-এর মতো সহিংসতার পথে তারা হাঁটবেন না বলেও স্পষ্ট করেন রাহুল। তার কথায়, সংবিধানকে কোনওভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, সমাজের একেবারে শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কণ্ঠস্বরও শোনা উচিত।

সেই কণ্ঠস্বর এবং অধিকার রক্ষা করাই তাদের লক্ষ্য।

“মোদী, অমিত শাহ এবং আরএসএস দেশে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে। অথচ দেশের মানুষ ভালোবাসা চায়ে এবং তারা ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত”, বলেন তিনি।