গুজরাটের বিধানসভার নির্বাচন, মোদীর জনপ্রিয়তার ‘সহজ পরীক্ষা’

জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাস্ত করে মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।      

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Dec 2022, 10:12 AM
Updated : 1 Dec 2022, 10:12 AM

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজ রাজ্য গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের দুই পর্বের মধ্যে প্রথম পর্বে বৃহস্পতিবার বিধানসভার ১৮২টি আসনের মধ্যে ৮৯টিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

মোদীর নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) টানা সপ্তমবারের মতো জয় পাবে বলে নির্বাচনপূর্ণ জরিপগুলো থেকে ধারণা পাওয়া গেছে। কিন্তু এ নির্বাচনে অপ্রত্যাশীত কিছু ঘটে গেলে তা আগামী ২০২৪ সালে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠিন প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শিল্প প্রধান রাজ্যটিতে ১৯৯৫ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছে বিজেপি। ২০১৪-র জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাস্ত করে মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

গুজরাট নির্বাচন নিয়ে হওয়া মতামত জরিপগুলোতে বিজেপি সহজ জয় পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এ ভোটকে জাতীয় নির্বাচনের আগে মোদীর জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, যে পরীক্ষায় তিনি সহজে পাস করবেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।  

এ নির্বাচনে বিজেপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আম আদমি পার্টি (এএপি) । মাত্র একদশক আগে গঠিত এ দলটি গুজরাটের নির্বাচনী প্রচারণার দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসকে একপাশে ঠেলে দিয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গুজরাটে বিজেপি ১৪০টি আসনে জয় লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলেও তাদের আসল চ্যালেঞ্জ আসন হারানো ঠেকানো, কারণ ২০০২ সাল থেকে তাদের আসন সংখ্যা কমতে শুরু করেছে; ওই সময় ১৩৭টি আসন থাকলেও ২০১৮ সালে তা ৯৯-তে নেমে আসে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ বিজেপির নির্বাচনী অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বিজেপি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে, দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রাজ্যটির আনাচে-কানাচে চষে বেড়িয়েছে।

অন্য যে নেতারা গত মাসের অধিকাংশ সময় রাজ্যটিতে থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের মধ্যে এএপির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল অন্যতম। চলিত বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাব রাজ্যে পাওয়া ব্যাপক জয়ে উজ্জীবিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল গুজরাটকে তার দলের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

২০১৮-র নির্বাচনে গুজরাটে এএপি কোনো আসন না পেলেও কেজরিওয়ালের ধারণা, এবার তার দল ৯২টি আসনে জয় পাবে।

কংগ্রেস ২০১৮-র নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়েছিল। এবার দলটি এখানে জোরালো প্রচারণা চালায়নি। ওইবার রাহুল গান্ধী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিলেও এবার মাত্র একদিন এখানে ছিলেন। তিনি এখন ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

কংগ্রেস ব্যালট বাক্সগুলো কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হোম গার্ড ও রাজ্য পুলিশকে সেগুলো থেকে দূরে রাখতে বলেছে।

৫ ডিসেম্বর, সোমবার এ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের ভোট গ্রহণ করা হবে। ৮ ডিসেম্বর ভোট গণনার পর ফল ঘোষিত হবে।  

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক