চার ইসরায়েলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ইসরায়েলি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পত্তি, সম্পদ বা আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো লেনদেন করতে পারবেন না।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 05:05 AM
Updated : 2 Feb 2024, 05:05 AM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের আক্রমণ করার জন্য অভিযুক্ত চার ইসরায়েলি সেটেলারের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছেন।

পশ্চিম তীরে সহিংসতা ‘অসহনীয় স্তরে’ পৌঁছে গেছে মন্তব্য করে তিনি বিস্তৃত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, জানিয়েছে বিবিসি। 

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ইসরায়েলি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পত্তি, সম্পদ বা আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালানোর দিন থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়ে গেছে। 

জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারপর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে প্রায় ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী এদের অধিকাংশকে হত্যা করলেও অন্তত আটজনকে ইসরায়েলি সেটেলাররা মেরেছে বলে তথ্য জাতিসংঘের।

নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ করা, তাদের আতঙ্কিত করা বা তাদের সম্পত্তি গ্রাস করা যে কোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতা রাখে।

ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে মার্কিন প্রশাসন এই প্রথম এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিল। এটি একটি বিরল পদক্ষেপ। বাইডেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণে যাওয়ার আগে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। মিশিগানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী আছে, তারা ইসরায়েলের প্রতি বাইডেনের সমর্থনের সমালোচনা করে আসছে।

এই জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি আরব আমেরিকানদের সমর্থন ৫৯ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ১৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে। 

বৃহস্পতিবার বাইডেন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের কাছে সেটেলারদের সহিংসতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।  

পশ্চিমতীরে ফের হামলার ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রর কীভাবে সাড়া দেবে, এই নির্বাহী আদেশ তার ভিত্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি কিছু নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জরি করেছিল, তার তুলনায় এবারের নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত।

বাইডেন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম পর্যায়ে চারজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

“এরা সরাসরি সহিংসতা করেছে। এরা বারবার সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, ভয় দেখিয়ে আতঙ্কিত করেছে যা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির দিকে নিয়ে গেছে,” বলেছেন তিনি। 

কর্মকর্তারা জানান, এদের মধ্যে একজন হুয়ারা শহরে সহিংসতার সূচনা করে দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছে আর তাতে এক ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পাথর ও গলফ স্টিক নিয়ে লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে।

নির্বাহী আদেশটি ‘বৈষম্যহীন’ এবং যারাই বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় অংশ নেবে বা তাদের হুমকি দেবে, আতঙ্কিত করবে, ধ্বংস করবে, সম্পত্তি গ্রাস করবে বা সন্ত্রাসবাদে জড়াবে তাদের সবার বিরুদ্ধে, সে ইসরায়েলি হোক বা ফিলিস্তিন, এটি প্রয়োগ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে চারজন ইসরায়েলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, ডেভিড চাই চাসদাই (২৯), ইনন লেভি (৩১), আইনান তানজিল (২১) ও শালোম জিকারম্যান (৩২) । এদের মধ্যে তিনজন পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বসবাস করে আর অপরজন অধিকৃত অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় থাকে।

মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না, তাদেই কেউ কেউ পশ্চিম তীরের সহিংসতায় জড়িত বলে ধারণা করা হয়।